শিলিগুড়ি, দেবিকা দত্ত : ৯১ লক্ষ ২১ হাজার ৮০৮ টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি। ধৃত তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সেবক রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে পৌঁছল প্রধাননগর থানার পুলিশ। ওই ব্যাঙ্কেই অভিযুক্তের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। প্রতারণার বিপুল অঙ্কের টাকা কীভাবে ওই অ্যাকাউন্টে জমা পড়ল, কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এই লেনদেনের সঙ্গে ব্যাঙ্কের কোনও কর্মীর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও কলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর মণীষা মণ্ডল (১৯) নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করে প্রধাননগর থানার পুলিশ। অপারেশন সাইবার প্রহারের অধীনে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। গত ২৭ অক্টোবর ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রায় এক মাস ধরে তদন্ত চালানোর পর অভিযুক্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিক সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। তদন্তে দেখা যায়, ওই অ্যাকাউন্টে মোট ৯১ লক্ষ ২১ হাজার ৮০৮ টাকা জমা পড়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করা হত। এরপর ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। সেই প্রতারণার টাকা অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
শুক্রবার ধৃতকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে লেনদেনের নথি, টাকা জমা ও স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এবং অ্যাকাউন্ট পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। পাশাপাশি, এত বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের কোনও কর্মীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যাঙ্ককর্মীর যোগসাজশের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
এই প্রতারণা চক্রের পিছনে আরও কারা রয়েছে, প্রতারণার টাকা কার কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল এবং সেই অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রধাননগর থানার পুলিশ। ব্যাঙ্কের ভূমিকা ঘিরে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ায় গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।