শিলিগুড়ি, দেবিকা দত্ত: উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একদিকে যেমন রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, তেমনই গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের জন্য দিলেন সুখবরের ইঙ্গিত। সম্মানিক বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানালেন তিনি। শুক্রবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের উত্তরবঙ্গ সমাবেশে যোগ দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খোলেন মন্ত্রী।
এ দিন সমাবেশের পাশাপাশি রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে পাল্টা কটাক্ষ করেন তিনি। দিলীপের বক্তব্য, প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করছে। কোনও ব্যক্তির মন্তব্যে সরকারি কাজের উপর প্রভাব পড়বে না। ক্ষমতার জোরে পুলিশ বা প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা সফল হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর নাম টেনেও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী।
শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষেও সওয়াল করেন দিলীপ। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক। গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের উদ্দেশে দিলীপ জানান, তাঁদের সম্মানিক বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। কর্মীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বানও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আবাস যোজনার আবেদন নিয়েও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। জমা পড়া সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখা হবে এবং যাচাইয়ের পর ভুয়ো আবেদনগুলি বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দেন। পাহাড়ে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বজায় রাখতে প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। বিশেষ করে গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক শূন্যপদ পূরণ নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।