শিলিগুড়ি, দেবিকা দত্ত: উৎসবের আনন্দে শব্দদূষণ বরদাস্ত নয়। কালীপুজো ও দীপাবলিতে শব্দবাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। সরকারি নির্দেশিকা মেনে উৎসব পালনের আবেদন জানিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, নিয়ম অমান্য হলে প্রশাসনকে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।
শনিবার শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক দাবি নিয়ে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের দ্বারস্থ হয় হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন (এইচএনএএফ)। সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। দুর্গাপুজোয় শহরের বিভিন্ন পুজো কমিটি ডিজে ব্যবহার থেকে বিরত থাকায় তাদের প্রশংসাও করেন মন্ত্রী। আগামী দিনেও এই সচেতনতা বজায় রাখার আবেদন জানান তিনি।
সংগঠনের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে শব্দবাজির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৯০ ডেসিবেলের সীমা কার্যকর করা, পুজো মণ্ডপ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে সাউন্ড লিমিটার বসানো এবং অনুমোদিত গ্রিন ফায়ারক্র্যাকার ব্যবহারে জোর দেওয়া। রাত ৮টা থেকে ১০টার নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে বাজি পোড়ানো এবং বেআইনি বাজি বিক্রি ও অনলাইন কেনাবেচার উপর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর শঙ্কর ঘোষ জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। তাঁর কথায়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই একাধিক নির্দেশিকা রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে চলা সকলের দায়িত্ব। দুর্গাপুজোয় ডিজে বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে পুজো কমিটিগুলির সহযোগিতা প্রশংসনীয়। দীপাবলিতেও সাধারণ মানুষ একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, শব্দদূষণ নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে শিলিগুড়িতে বিশেষ প্রচার র্যালির আয়োজন করতে চলেছে এইচএনএএফ। লিফলেট বিলির মাধ্যমে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন ও সংগঠনের হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হবে। কোথাও শব্দদূষণ হলে সেই নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।