শিলিগুড়ি: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে খেলাধুলায় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি চাকরির সুযোগ পেলেন শিলিগুড়ির নয়জন কৃতী ক্রীড়াবিদ। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া শিলিগুড়ির ক্রীড়ামহলে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের মোট ৭৮ জন খেলোয়াড়কে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিল। সেই তালিকায় রয়েছেন শিলিগুড়ির এই নয়জন ক্রীড়াবিদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁদের অভিনন্দন জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
সরকারি চাকরির সুযোগ পাওয়া ক্রীড়াবিদরা হলেন সালমা মাঝি, পলাশ পাল, মনোজ সরকার, জ্যোতি বিশ্বকর্মা, সঞ্জিৎ মহন্ত, অনুকূল সরকার, জাহিদা খাতুন, মাম্পি সরকার এবং সঞ্চারী ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এসেছেন তাঁরা।
চাকরির সুযোগ পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন ক্রীড়াবিদরা। দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গল সাফারিতে ঘাস কাটার কাজের পাশাপাশি খো খো খেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জ্যোতি বিশ্বকর্মা। সরকারি চাকরির সুযোগ পেয়ে তিনি জানান, এতদিন মাঠের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সরকারি চাকরি পাননি। অবশেষে এই স্বীকৃতি পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি।
অন্যদিকে, সঞ্চারী ঘোষের কাছে এই চাকরি শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি জানান, সংসারের দায়িত্ব পালনে এই চাকরি অনেকটাই সহায়ক হবে।
ক্রীড়াবিদদের এই সাফল্যে তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, অনেক সময় খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া এবং সরকারি চাকরির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হন খেলোয়াড়রা। সেই কারণে বহু প্রতিভা অকালেই মাঠ থেকে সরে যান। কিন্তু এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থেকেও সরকারি চাকরির সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
মন্ত্রীর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদেরও খেলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাবে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে নয়জন ক্রীড়াবিদের জীবনে আর্থিক স্থায়িত্ব আসার পাশাপাশি শিলিগুড়ির ক্রীড়াক্ষেত্রেও নতুন করে উৎসাহ তৈরি হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।