শিলিগুড়ি: রেলপথকে কাজে লাগিয়ে মাদক পাচারের চেষ্টা! গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল শিলিগুড়ি জিআরপির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। ডাউন ১৫৬০৮ শিলচর-অরুণাই এক্সপ্রেসের এসি কোচে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হল প্রায় ২৫০ গ্রাম ব্রাউন সুগার। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি। এই ঘটনায় দুই মহিলা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতদের নাম রহিজা বেগম (২৮), খাদিজা বেগম লস্কর (৩২) এবং আব্দুল হালিম মজুমদার (৩১)। তিনজনই অসমের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
জিআরপি সূত্রে খবর, ট্রেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হচ্ছে বলে আগাম খবর পান শিলিগুড়ি জিআরপির এসওজি আধিকারিকেরা। এরপর শিলিগুড়ি জিআরপি এসওজি এবং এনজেপি জিআরপি যৌথভাবে অভিযানে নামে। ডাউন শিলচর-অরুণাই এক্সপ্রেসের এসি কোচে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে দুই মহিলা-সহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এরপর এনজেপি স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তাঁদের নামিয়ে সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাদকের সন্ধান। দুটি ব্যাগের ভিতরে রাখা ছিল মোট ১৮টি স্যুটকেস। একটি ব্যাগে আটটি এবং অন্যটিতে ১০টি স্যুটকেস ছিল। সেগুলির মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল প্রায় ২৫০ গ্রাম ব্রাউন সুগার। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত তিনজন অসম থেকে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চেন্নাইয়ে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তবে এই পাচারচক্রের পিছনে আরও কেউ রয়েছে কি না, মাদকের উৎস কোথায় এবং চেন্নাইয়ে কার কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করেছে জিআরপি। তাঁদের জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারীরা।