দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবেগের মেলবন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গোৎসব। এবার ৯৬তম বর্ষে পদার্পণ করল এই পুজো। দীর্ঘ পথচলায় একদিকে যেমন পুজোর আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় রীতিনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসা হয়েছে, তেমনই শহরের মানুষের আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই পুজো।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলা। শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর কাশফুলের দোলায় যখন দেবীপক্ষের আগমন ঘটে, তখন থেকেই শুরু হয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রস্তুতি। সেই উৎসবের আবহে শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালীবাড়ির পুজো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বছরের পর বছর ধরে এই পুজোকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে গভীর বিশ্বাস ও আবেগ।
৯৬ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের ধারাবাহিকতা নয়, বরং শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে বদলেছে শহরের চেহারা, বেড়েছে জনসংখ্যা, এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। কিন্তু ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আজও আপন মহিমায় এগিয়ে চলেছে আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গোৎসব। পুরনো রীতিনীতি বজায় রাখার পাশাপাশি উৎসবের সার্বিক পরিবেশে ধরা পড়ে বাঙালির চিরাচরিত দুর্গাপুজোর আবেগ।
পুজোর দিনগুলিতে দেবী দর্শন, পুজোর আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় নিষ্ঠার পাশাপাশি এই পুজো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তাও বহন করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজো দিতে আসা থেকে শুরু করে পরিচিতদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি হয় এক আন্তরিক পরিবেশ।
শিলিগুড়ির মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল শহরে পুরনো পুজোগুলির গুরুত্ব তাই আজও অমলিন। নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়া এবং পুরনো সংস্কৃতিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রেও এমন পুজোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গাপুজো সেই ধারাকেই বহন করে চলেছে।
৯৬তম বর্ষে পদার্পণের মধ্য দিয়ে আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গোৎসব আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, সময় বদলালেও ঐতিহ্যের শিকড় কখনও হারিয়ে যায় না। ভক্তি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে অটুট রেখে আগামী দিনেও এই পুজো শিলিগুড়ির মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে, এমনটাই আশা পুজোর সঙ্গে যুক্ত ভক্তদের।