শিলিগুড়ি: পুজোর আগে পাহাড়মুখী পর্যটকদের জন্য সুখবর। নতুন সাজে ফিরল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহাসিক ফটো গ্যালারি তথা মিউজিয়াম। শুকনা স্টেশনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরতে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই মিউজিয়াম। শনিবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টেশন মহোৎসব’-এর মধ্য দিয়ে নতুন রূপে মিউজিয়ামটির উদ্বোধন করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, পুজোর মরশুমে পাহাড়মুখী পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী, এডিআরএম, স্টেশন মাস্টার-সহ রেলের একাধিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট অতিথিরা।
প্রায় ১৪৬ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী শুকনা স্টেশন পাহাড়ি রেলপথে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। শিলিগুড়ি থেকে টয় ট্রেনে পাহাড়ের পথে যাত্রা শুরু হলে এই স্টেশন ঘিরেই জড়িয়ে থাকে এক দীর্ঘ ইতিহাস। অথচ এক সময় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল স্টেশনের ঐতিহাসিক মিউজিয়াম। সেই মিউজিয়ামকেই নতুন করে সাজিয়ে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে রেল।
নতুন করে সাজানো মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে শুকনা স্টেশনের অতীতের নানা ছবি, বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ইতিহাসের বিভিন্ন দিক। পুরনো দিনের স্মৃতি থেকে শুরু করে পাহাড়ি রেলপথের বিবর্তন—ছবির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে ঐতিহ্যের নানা অধ্যায়।
শুধু ছবি দেখেই থেমে থাকতে হবে না পর্যটকদের। মিউজিয়ামের বিভিন্ন ছবি ও প্রদর্শনীর পাশে রাখা হয়েছে বিশেষ কিউআর কোড। সেই কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট ছবি এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন দর্শকেরা। প্রযুক্তির সাহায্যে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই ব্যবস্থা পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, ডিআরএম, কাটিহার এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টরের যৌথ উদ্যোগে মিউজিয়ামটিকে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ সুবিধা। টয় ট্রেনের টিকিট কেটে যাত্রা করলে সেই টিকিটের মধ্যেই মিউজিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে শুকনা স্টেশনে টয় ট্রেন পৌঁছনোর পর অতিরিক্ত টাকা না দিয়েই মিউজিয়াম ঘুরে দেখতে পারবেন যাত্রীরা। তবে শুধুমাত্র মিউজিয়াম দেখতে গেলে প্রবেশমূল্য দিতে হবে ৫০ টাকা। সপ্তাহের সাত দিনই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মিউজিয়ামটি।
পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুজোর মরশুমে টয় ট্রেনের যাত্রার সঙ্গে ইতিহাসের এই নতুন ঠিকানা জুড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের।