দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দেবীপক্ষের সূচনা। আর সেই বিশেষ দিনেই দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে পুজোর আনুষ্ঠানিক আবহ তৈরি হতে চলেছে শিলিগুড়ির সেন্ট্রাল কলোনির দুর্গাপুজোয়। এ বছরের পুজোকে ঘিরে উদ্যোক্তাদের বিশেষ আকর্ষণ, দেবীকে সাজানো হবে ১০০ কেজি সোনা দিয়ে। এই অভিনব আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই পুজোপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বাঙালির দুর্গাপুজোয় মহালয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। পিতৃপক্ষের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দেবীপক্ষ। ভোরের বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার মধ্য দিয়ে বাঙালি মেতে ওঠে উমার আগমনের আনন্দে। সেই আবহেই প্রতিমার চক্ষুদান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শিল্পীর তুলির টানে দেবীর চোখ ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিমা যেন পূর্ণতা পায়। ভক্তদের বিশ্বাস, চক্ষুদানের মধ্য দিয়েই দেবীর মুখাবয়বে জীবন্ত হয়ে ওঠে মাতৃরূপ।
সেন্ট্রাল কলোনির পুজোয় এ বার সেই চিরাচরিত ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোনার সাজের বিশেষ আকর্ষণ। ১০০ কেজি সোনা দিয়ে দেবীকে সাজানোর পরিকল্পনার কথা সামনে আসতেই এই পুজো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিমার সাজসজ্জা দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
তবে সোনার সাজের পাশাপাশি মহালয়ার চক্ষুদান পর্বও এই পুজোর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দেবীপক্ষের সূচনায় দেবীর চোখ আঁকার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদোৎসবের প্রতীক্ষা। মহালয়ার সকালে ভক্তদের কাছে এই আচার শুধু ধর্মীয় রীতি নয়, বরং আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
শিলিগুড়িতে দুর্গাপুজো মানেই থিম, মণ্ডপসজ্জা এবং নানা অভিনব উদ্যোগের প্রতিযোগিতা। সেই আবহে সেন্ট্রাল কলোনির এই পুজো কতটা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করতে পারে, এখন সেটাই দেখার। ১০০ কেজি সোনার সাজের দাবি এবং মহালয়ার চক্ষুদান—এই দুই বিষয়কে ঘিরেই এ বছরের পুজোকে কেন্দ্র করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।