Monday, November 2, 2026
জেলা

চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে বর্ধমানের একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

Published by Newz4 Admin |
সায়নী সরকার Posted by সায়নী সরকার
- October 18, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে বর্ধমানের একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

সায়নী সরকার: পশ্চিম বর্ধমান: রবিবারই হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের কিন্তু তার বদলে গ্রামে এল মৃত্যুর দুঃসংবাদ। উৎসবের আনন্দ নিমেষেই মুছে গিয়ে গোটা এলাকায় নেমে এল শোকের ছায়া। কলকাতার পুজো মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রবল ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামের এক স্কুলছাত্র, তার মা এবং মামিমার। 

 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম সন্দীপ বেজ, টগর বেজ এবং পিয়ালী প্রামাণিক। সন্দীপ স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির 

ছাত্র এবং টগর বেজ তার মা। 

অন্যদিকে, পিয়ালী প্রমাণিক হলেন টগর বেজের ভাইয়ের স্ত্রী, তাঁর আদি বাড়ি হুগলি জেলার বালিয়া গ্রামে। সন্দীপের সঙ্গে তার দিদি, প্রথম বর্ষের কলেজ পড়ুয়া আগমনীও কলকাতায় গিয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত আগমনী বড়সড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছে এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

ঠিক কী ঘটেছিল? পরিবারের সদস্য সন্দীপের দাদু শ্রীপতি বেজ বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বীরপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন টগর বেজ। ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনি প্রথমে যান আরামবাগে নিজের বাপের বাড়িতে। সেখান থেকেই শুক্রবার মামা, মামিমা এবং অন্যান্য আত্মীয়দের নিয়ে মোট ৯ জনের একটি দল কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়।

 

 কলকাতায় পড়াশোনার সূত্রে থাকা এক আত্মীয়ের ভাড়া বাড়িতে উঠেছিলেন তাঁরা। সেখান থেকেই একসঙ্গে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা ছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ, রবিবারই তাঁদের গ্রামে ফিরে আসার কথা ছিল।

কিন্তু তা আর হল না। রাতের কলকাতায় চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে দেখতে তাঁরা চোরবাগান এলাকার একটি মণ্ডপে পৌঁছান। সেখানে তখন দর্শনার্থীদের বাঁধভাঙা ভিড়, তিল ধারণের জায়গা নেই। সেই প্রবল ভিড় আর হুড়োহুড়ির মাঝেই হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান সন্দীপ, টগর এবং পিয়ালী। অসংখ্য মানুষের পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে যান তাঁরা।

গত শনিবার রাত আটটা নাগাদ এই দুঃসংবাদ এসে পৌঁছায় বীরপুর গ্রামে। এমন মর্মান্তিক খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা আত্মীয় উদয় বেজ বলেন, "আমরা শনিবার রাতে খবরটা পাই। ওরা তো শুধু আনন্দ করতে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিল। এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।" একইসঙ্গে তিনি পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা এবং পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর আক্ষেপ, "নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজ ঠিকঠাক থাকলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement