Monday, November 2, 2026
জেলা

চোরবাগানের ঘটনার পরে পুজোর নিরাপত্তায় কড়া শঙ্কর, জারি ১০ দফা নির্দেশিকা

Published by Newz4 Admin |
দেবিকা দত্ত Posted by দেবিকা দত্ত
- October 19, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
চোরবাগানের ঘটনার পরে পুজোর নিরাপত্তায় কড়া শঙ্কর, জারি ১০ দফা নির্দেশিকা

দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর সময়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পরে শিলিগুড়িতেও পুজোর নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর প্রশাসন। রবিবার সন্ধ্যায় স্টেট গেস্ট হাউসে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বৈঠক শেষে পুজো মণ্ডপ ও মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করেন তিনি। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটি ও মেলার উদ্যোক্তাদের দায় নির্দিষ্ট করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

বড় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ওঠানামার ব্যবস্থা থাকলে মেঝের ভার বহন করার ক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়েও যাতে কাঠামোর ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিনের মণ্ডপে বৈদ্যুতিক তার ও ওয়্যারিংও পরীক্ষা করতে হবে। মেলায় নাগরদোলা, নৌকার আকৃতির রাইড-সহ সমস্ত ধরনের বিনোদনমূলক রাইডের ক্ষেত্রে ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাইডের মালিক, মেলা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায় নির্ধারণ করা হবে।

ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের মাপের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার উপরে জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রবেশের গেট ২০ ফুট চওড়া, অথচ বেরোনোর গেট মাত্র চার ফুট—এমন ব্যবস্থা চলতে পারে না। এতে ভিড় জমে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একসঙ্গে অনেক দর্শনার্থীকে মণ্ডপে ঢুকতে না দিয়ে ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ রাইড ও খেলা রাত ১২টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময়ে যাতে মণ্ডপ অন্ধকারে ডুবে না যায়, তার জন্য জেনারেটর ও ইনভার্টার লাইটের বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি পূর্ত দফতরের সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ, বিদ্যুৎ দফতর এবং দমকলের আধিকারিকদের নিয়মিত পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সচল রাখতে প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে অন্তত দু’জন চালক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং নিয়মিত নজরদারির উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভিড় সামলানোর কাজে কমবয়সি শিশুদের স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে নিয়োগ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড়ের সময়ে ক্লাবের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ সদস্যদের দায়িত্ব নিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মণ্ডপের আশপাশে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশক বোর্ড রাখতে হবে। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথও স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করতে হবে। রাস্তার উপরে তৈরি প্রতিটি তোরণ ও গেটে সংশ্লিষ্ট ক্লাব বা উদ্যোক্তা কমিটির নাম এবং স্টিকার লাগান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কাজের জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। কোনও তোরণ বা গেট ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অধীন ২১টি পুলিশ বুথের ফোন নম্বর পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া হবে।

পুজোর জাঁকজমক বাড়ানো বা বেশি দর্শনার্থী টানার প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শঙ্কর। মেলা ও তার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কার্যকলাপের দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট মূল পুজো কমিটিকে। ক্লাবের সভাপতি, সম্পাদক, মেলার উদ্যোক্তা এবং রাইডের মালিকদের নাম ও ফোন নম্বর-সহ লিখিত নথি তৈরি করে অনুমোদন করাতে হবে। প্রতিটি থানা এলাকার আইসি ও ওসিদের এই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক্কর, পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার, মহকুমাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। পুজোর প্রস্তুতি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের কাঠামোগত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও দমকল পরিষেবা নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়া হয়।

মন্ত্রী জানান, বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হবে। আগামী বছর বিসর্জনের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে জিআরপির সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে পুজো কমিটিগুলিকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উৎসব সম্পন্ন করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement