দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। প্রতিদিনের মতো প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন শিউলি দত্ত। অভিযোগ, সেই সময়েই তাঁর পথ আটকান পরিচিত এক ব্যক্তি। ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় শিক্ষিকার উপর। প্রাণ বাঁচাতে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও রেহাই মেলেনি। সেখানেই তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠেছে সজল দাস ওরফে রাম নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর পর বিষ খেয়ে নিজের পেটে ছুরি চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তও। বুধবার সকালে শিলিগুড়ির মধ্য শান্তিনগর এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিউলি একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি ছেলেকে নিয়ে মধ্য শান্তিনগর এলাকায় ভাড়া থাকেন। অভিযুক্ত সজলের বাড়িও ওই এলাকার কাছেই। স্থানীয়দের দাবি, দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। তাঁদের মধ্যে সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
অভিযোগ, বুধবার সকালে শিউলি হাঁটতে বেরোলে তাঁর পিছু নেন সজল। কিছুটা এগোনোর পরেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে শিউলি একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সেখানেও তাঁর পিছু নেন অভিযুক্ত। বাড়ির ভিতরে ঢুকে শিউলির গলা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক কোপ মারার অভিযোগ উঠেছে। এর পরেই নিজের পেটে ছুরি চালিয়ে দেন সজল। তার আগে বিষও খেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার সময় স্থানীয়েরা ছুটে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, সজলকে বাধা দিতে গেলে তিনি উল্টে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভক্তিনগর থানার অধীন আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সজলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাঞ্চনী মণ্ডল বলেন, “হঠাৎই এক মহিলা এই বাড়িতে ছুটে ঢুকে পড়েন। তাঁর পিছনে এক ব্যক্তিও ছুটে আসেন। বাড়ির ভিতরে মহিলাকে একের পর এক ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। তার পর ওই ব্যক্তিও বিষ খেয়ে নিজের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেন। চোখের সামনে এই ঘটনা দেখে আমার হাত-পা কাঁপছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা বুবাই দাসের কথায়, তাঁর স্ত্রী প্রথমে ওই দু’জনকে বাড়িতে ঢুকতে দেখেন। পরে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তকে থামাতে গেলে তিনি ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখান।
অন্য দিকে, আহত শিক্ষিকার দাদা কল্যাণ সাহার অভিযোগ, এর আগেও সজল তাঁর বোনকে উত্যক্ত করতেন। সেই বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তবে এ দিন পর্যন্ত সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সম্পর্কের টানাপড়েনই এই হামলার নেপথ্যে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।