মহম্মদ শাহজাহান আনসারী : বাঁকুড়া : আইআইটি বম্বের e-Yantra Innovation Challenge-এর পূর্বাঞ্চলীয় কেন্দ্র বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং
আইডিয়া জেনারেশন কর্মশালায় অংশ নিলেন বিভিন্ন রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা, গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন উদ্ভাবনের বার্তা দিলেন চেয়ারম্যান শশাঙ্ক দত্ত।
ছোট্ট একটি আইডিয়া থেকেই জন্ম নিতে পারে বড় পরিবর্তনের স্বপ্ন।
সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (BUIE) অনুষ্ঠিত হল আইআইটি বম্বের e -Yantra Innovation Challenge (eYIC) 2026-27-এর আইডিয়া জেনারেশন কর্মশালা।
আইআইটি বম্বের উদ্যোগে এবং BUIE-র রোবোটিক্স ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিহারের পাটনা, চম্পারণ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি BUIE-র পড়ুয়ারাও এই কর্মশালায় যোগ দেন।
আইআইটি বম্বে থেকে আগত দুই প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কর্মশালাটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।
সারা দেশকে ছটি অঞ্চলে ভাগ করে আইআইটি বম্বে এই উদ্ভাবনী কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তার মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের কেন্দ্র হিসেবে বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচিত হওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে এক বিশেষ গর্বের বিষয় ।
প্রত্যন্ত জঙ্গলমহল এলাকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে জাতীয় স্তরের এই কর্মসূচির আয়োজন প্রমাণ করে যে, মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের কোনও ভৌগোলিক সীমা নেই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে BUIE-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক দত্ত বলেন, “একটি ছোট্ট আইডিয়া যে কত বড় পরিবর্তনের জন্ম দিতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ আমাদের এই বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং।”
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে বাঁকুড়া উন্নয়নী সমিতির তৎকালীন উদ্যোগ ও স্বপ্ন থেকে এই প্রতিষ্ঠানের পথচলার সূচনা। সেই সময় সমিতির নেতৃত্বে থাকা অমিয় পাত্র উপলব্ধি করেছিলেন, আর্থিক অসুবিধা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে জঙ্গলমহল এলাকার বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পক্ষে উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সেই সমস্যা সমাধানের ভাবনা থেকেই বাঁকুড়ায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
একটি ছোট্ট স্বপ্ন ক্রমে বাস্তব রূপ পায় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং।
চেয়ারম্যানের কথায়, আজ এই প্রতিষ্ঠানের বহু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁদের সাফল্যই প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরাও নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার পরিচয় দিতে পারেন।
এই প্রতিষ্ঠানেরই প্রাক্তনী জিবেশ পাত্র, সুবিদ আলীর মতো কৃতী ব্যক্তিত্ব আইআইটিতে অধ্যাপক, এবং কলেজের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান ফেলরাম হেমব্রমের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বোঝান, সুযোগ, শিক্ষা ও সঠিক দিশা পেলে সাধারণ পরিবারের সন্তানও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারে।
শশাঙ্ক দত্ত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু বড় বড় স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন নতুনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, সমস্যা চিহ্নিত করার দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতা।
বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনের সমস্যা, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদাকে সামনে রেখে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের এমন সব আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, যা প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি সমাজের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।
আইআইটি বম্বের e-Yantra কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যও হল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান* *করার মানসিকতা গড়ে তোলা।
এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভাবনাকে সুসংগঠিত করে ভবিষ্যতে প্রোটোটাইপ তৈরি এবং কার্যকর উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাবেন।
বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এই জাতীয় কর্মসূচির আয়োজন জঙ্গলমহলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।
এর ফলে শুধু প্রযুক্তিশিক্ষার প্রসারই নয়, স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও নতুন উদ্যোগের পথ তৈরি হতে পারে।
একটি ছোট্ট আইডিয়া থেকে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর সেই প্রতিষ্ঠান থেকে হাজারো ছাত্রছাত্রীর জীবনে নতুন সম্ভাবনা—বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথচলা যেন সেই সত্যকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।