Sunday, November 1, 2026
দক্ষিণবঙ্গ

উমাকে বিদায় দিতে মন সায় দেয় না! অষ্টমঙ্গলা শেষে বিজোড় দিনে বিসর্জন, ২৫৯ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মধুপুর

Published by Newz4 Admin |
পিউ নন্দী Posted by পিউ নন্দী
- November 01, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
২৫৯ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে মধুপুর

পিউ নন্দী, পুরুলিয়া: মেয়ের বিয়ে হয়েছে, কিন্তু বাপের বাড়ির টান কি আর সহজে কাটে! তাই তো বিয়ের পর অষ্টমঙ্গলার জন্য মেয়েকে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনার রীতি রয়েছে। পুরুলিয়ার মানবাজারের মধুপুর গ্রামে দেবী দুর্গার ক্ষেত্রেও যেন সেই একই আবেগ। এখানে উমা শুধুই দেবী নন, তিনি পরিবারের আদরের মেয়ে। তাই দশমীর দিনেই তাঁকে বিদায় জানান না সেন পরিবারের সদস্যরা।

মানবাজার-১ ব্লকের বিশরি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধুপুর গ্রামের সেন পরিবারের দুর্গাপুজোয় ২৫৯ বছর ধরে চলে আসছে এই বিশেষ প্রথা। নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর পর আরও আট দিন পরিবারের কাছেই থাকেন মা দুর্গা। এই সময়টুকু কার্যত উমার অষ্টমঙ্গলা হিসেবেই পালন করেন পরিবারের সদস্যরা।

তবে বিসর্জনের ক্ষেত্রেও রয়েছে এক অভিনব বিধান। অষ্টমঙ্গলার পরের দিন জোড় হলে সেদিন প্রতিমা নিরঞ্জন করা যায় না। অপেক্ষা করতে হয় বিজোড় দিনের। এবছরও সেই নিয়ম মেনেই শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার মধুপুরের বড় পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা।

বিসর্জনের দিনেও আবেগের কমতি থাকে না। মহিলারা ফের সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। ঢাকের বাদ্যি, সিঁদুর দিয়ে বরণ এবং নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয় উমাকে। বিসর্জনের আগে পর্যন্ত চলে পুজো, আরতি ও ভোগ নিবেদন।

পরিবারের সদস্য প্রণবকুমার সেন জানান, তাঁদের কাছে মা দুর্গা ঘরের মেয়ের মতোই। তাই অষ্টমঙ্গলার বিধান মেনেই তাঁকে বিদায় জানানো হয়।

এখানে বিসর্জন মানে শুধু প্রতিমা নিরঞ্জন নয়, আরও কয়েকটা দিন মেয়েকে কাছে পাওয়ার আনন্দ শেষে একরাশ মনখারাপ নিয়ে বিদায় জানানো।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement