Saturday, October 31, 2026
দক্ষিণবঙ্গ

মৃত্যুকে হারিয়ে ‘অলৌকিক’ প্রত্যাবর্তন! কোমা কাটিয়ে নতুন জীবন পেলেন বাঁকুড়া মেডিক্যালের প্রথম বর্ষের ডাক্তারি ছাত্র আমান

Published by Newz4 Admin |
মহম্মদ শাহজাহান আনসারী Posted by মহম্মদ শাহজাহান আনসারী
- October 29, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
কোমা অবস্থা থেকে জ্ঞান ফিরে পাওয়া পড়ুয়া

বাঁকুড়া :সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে অসাধ্য সাধন,কোমা থেকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তনে নতুন জীবন পেল প্রথম বর্ষের ছাএ। প্রান্তিক অঞ্চলের চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিকাঠামোর ঘাটতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক অনন্য নজির গড়লেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। দীর্ঘদিনের কোমা এবং অচেতন অবস্থা কাটিয়ে অবশেষে চোখ মেলেছে বিহারের বাঁকার বাসিন্দা ও বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র আমান রাজ। চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সাহসিকতায় এই ‘অসাধ্য সাধন’ সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে,১৭ই সেপ্টেম্বর বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের বয়েস হোস্টেলের কাছেই ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন আমান রাজ।দ্রুত তাঁকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। ভর্তির পর থেকেই একটানা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন ওই পড়ুয়া। রোগীর অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিল যে, হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে তাঁর সিটি স্ক্যান সহ একাধিক পরীক্ষা করানো হলেও প্রথমে কোনো স্পষ্ট ত্রুটি ধরা পড়েনি।অথচ তাঁর শরীরে কোনো রকম সাড়া বা নড়চড় ছিল না, হুঁশও ফেরেনি।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ একটি প্রান্তিক অঞ্চলের চিকিৎসাকেন্দ্র হওয়ায় যেখানে বিশেষ ট্রমা কেয়ার বা উন্নত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, ঠিক সেখানেই এক নতুন আশার আলো দেখালেন নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ড. চিরন্তন ব্যানার্জী ও তাঁর টিম। এই কঠিন অবস্থাকে একটি ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে গ্রহণ করেন তাঁরা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তাঁদের চিকিৎসাতেই অবশেষে জ্ঞান ফেরে আমানের।

বর্তমানে আমান আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এখন নিয়মিত ফিজিওথেরাপির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা যথেষ্ট আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই সে আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের সুপার,প্রিন্সিপাল এবং চিকিৎসক মহলের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে যে, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজের মতো প্রান্তিক চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে যদি আরও উন্নত মানের পরিকাঠামো ও আধুনিক ট্রমা কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তবে এই ধরনের জটিল ও গুরুতর রোগীদের আরও সহজে এবং দ্রুত সুস্থ করে তোলা যাবে। 

আমানের এই সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাটি প্রমাণ করে দিল যে, পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা থাকলেও চিকিৎসকদের অদম্য ইচ্ছা এবং মেধার জোরে মৃত্যুর মুখ থেকেও জীবন ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement