Monday, November 2, 2026
উত্তরবঙ্গ

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুকান্ত, উপাচার্য-জট কাটার আশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেকেন্ড হোম’ বললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

Published by Newz4 Admin |
দেবিকা দত্ত Posted by দেবিকা দত্ত
- October 04, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুকান্ত, উপাচার্য-জট কাটার আশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেকেন্ড হোম’ বললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম বার নিজের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পা রেখেই যেন ফিরে গেলেন পুরনো দিনে। হেঁটে ঘুরে দেখলেন নিজের প্রিয় উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেকেন্ড হোম’ বলে উল্লেখ করলেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য না থাকা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

সুকান্ত জানান, ২০০৫ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা শুরু। পরে চাকরি করতে করতেই ২০১৮ সালে এখান থেকেই পার্টটাইমে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার জীবনের সেরা সময়গুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কেটেছে।’’ তিনি জানান, এসি রায় গভর্নমেন্ট কলেজে চাকরি করার সময়ে শিবমন্দিরে থাকতেন। তখন হেঁটেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতেন। সেই পুরনো স্মৃতি মনে করেই এ দিন হেঁটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকেন তিনি।

রাজনীতিতে না এলে হয়তো অধ্যাপনাতেই ফিরতেন বলেও জানান সুকান্ত। তাঁর কথায়, আগে সাংসদ হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসাবে এই প্রথম তাঁর আসা। ব্যস্ততা বাড়লেও পুরনো বিভাগ তাঁকে এখনও টানে। রাজনীতিতে না এলে আবার ফ্যাকাল্টি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার চেষ্টা করতেন বলেও জানান তিনি।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত বলেন, ‘‘এটি সাময়িক সমস্যা।’’ তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার পোষিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে এক সময়ে রাজ্য সরকার এবং আচার্য তথা রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধ গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করলে রাজ্যের তরফে হলফনামা দিয়ে জানানো হবে যে আচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে আর কোনও বিরোধ নেই। তাতে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব বলেই তাঁর আশা।

আইনি জটিলতা এবং ক্যাভিয়েটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সমস্যার সমাধান নিয়ে উচ্চশিক্ষা দফতরের মুখ্যসচিবের পাশাপাশি মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দ্রুত জট কাটানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

অন্য দিকে, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সুকান্ত জানান, এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতর পরিকল্পনা করছে। শীঘ্রই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। কে কখন স্কুলে ঢুকছেন, কখন বেরোচ্ছেন—সব কিছুই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আনা হবে। ফলে স্কুলে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement