সায়নী সরকার: পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট, অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচল এবং যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের সমস্যা সমাধানে এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ময়দানে নেমেছে পুর প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই বর্ধমানের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট সংলগ্ন বি সি রোডে সারপ্রাইজ ভিজিট করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বি সি রোডে কার পার্কিংয়ে বিশৃঙ্খলা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা পরিদর্শনকরলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র।
এদিন এলাকা পরিদর্শনের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়, শহরের প্রাণকেন্দ্র বি.সি. রোড সহ বিভিন্ন প্রধান সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ দখলদারি, রাস্তার ওপর বাজার বসানো, আবর্জনা ফেলে রাখা এবং নিয়ম না মেনে বাইক ও টোটো দাঁড় করিয়ে রাখার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমনকি নিকাশী নালার বেহাল দশার কারণে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। দীর্ঘ বহু বছর ধরে সঠিক নিয়মকানুন কার্যকর না হওয়ায় এবং নাগরিক শৃঙ্খলার অভাবে শহরের এই পরিণতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ সুসংহত পরিকল্পনা। যত্রতত্র গাড়ি বা সাইকেল রাখা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চার্চ, জলট্যাঙ্কি এবং বিচিত্রার সামনের মতো পুরসভার নির্দিষ্ট স্থানগুলোকে 'ফ্রি-জোন' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত এক সারিতে গাড়ি পার্ক করতে পারবেন। তবে কেউ যদি এই নিয়ম ভেঙে রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে গাড়ি রাখেন, তবে সেই যানবাহন সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কঠোর আর্থিক জরিমানা করা হবে।
যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে বড় ধরনের রদবদল। তেঁতুলতলা বাজার হয়ে ঢলদিঘি পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত টোটোর বিকল্প পথ তৈরির পাশাপাশি খোশবাগানের জরুরি যাতায়াতের জন্য জলট্যাঙ্কি ও সুভাষপল্লী সংলগ্ন রুটটিকে ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। শহরের বাইরে থেকে আসা বেআইনি টোটো চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে কালার কোডিং এবং কিউআর কোড ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এছাড়া বিডিএ-র আওতাধীন ম্যান্ডেলা পার্কটি দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ম মেনে কালীপুজো আগেই খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এতদিনের জমে থাকা সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব না হলেও আগামী এক মাসের মধ্যে পরিকল্পনামাফিক কাজ শেষ করে বর্ধমান শহরের ট্রাফিকের রূপ পুরোপুরি বদলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শহরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এবং সার্বিক পরিবর্তন সফল করতে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হয়ে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।