বীণা নন্দী দাস: পশ্চিম মেদিনীপুর : মেদিনীপুর শহরে তরুণী গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনায় সিট গঠন করল জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন এই সিট গঠনে ডিএসপি পদ মর্যাদায় দেবঞ্জয় সেনের নেতৃত্বে,এই তদন্তে রয়েছেন মেদিনীপুর কোতওয়ালী থানার আইসি সিদ্ধার্থ ঘোষ,সাইবার ক্রাইম থানার আইসি উৎপল কুমার সাহা,মহিলা থানার আইসি কবিতা দাস, মামলার তদন্তকারী আধিকারিক এসআই (SI) সুমিত সেনাপতি এবং SOG সেলের ওসি (SI) প্রীতম সরকার। জেলা পুলিশের দাবি করেন, এই'বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে এই মামলা কোতোয়ালি থানার, নং ৬৪৯/২৬ (তারিখ: ০৯.১০.২০২৬)—যা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৮৫/৮০(২)/১০৩(১)/৩(৫) এবং যৌতুক নিরোধক আইনের ধারা ৩/৪-এর অধীনে নথিভুক্ত—এবং তার তদন্তের জন্য বিশেষ একটি তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন যমুনাবালিতে স্নেহা চক্রবর্তীর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু এলাকায় নয় এখন শহরেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত স্নেহার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্নেহার স্বামী রণদীপ জানা এবং তাঁর বাবাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রণদীপ কে প্রথমে চার দিনের পুলিশ হেফাজত এবং গত বুধবার আদালতে তোলা হলে পুনরায় চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রণদীপের আইনজীবী মৃণাল কান্তি চৌধুরী জানান পুলিশ রণদীপের দুটি মোবাইল এবং bmw গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে। গাড়ি কেনার সঙ্গে এই ঘটনার কোন যোগাযোগ নেই বলেই দাবি করছেন রণদীপের আইনজীবী। এদিন রণদীপের জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা খারিজ করে দেন।
গত মঙ্গলবারের পর গত বুধবারও সন্ধ্যায় মৃত স্নেহা চক্রবর্তীর বাড়ি ডাকবাংলা রোড থেকে একটি মোমবাতি মিছিল বেরোয়। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন স্নেহার আত্মীয় পরিজন বন্ধুবান্ধব সহকর্মী থেকে আপামর শহরের সাধারণ মানুষ। এই মোমবাতি নিয়ে মৌন মিছিল থেকে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি তোলেন স্নেহার পরিচিতি জনেরা। স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী জানান আইনের প্রতি তার ভরসা আছে পুলিশ প্রশাসন সঠিক তদন্ত করছে উপযুক্ত দোষীরা শাস্তি পাবেই।
এখন দেখার শহরের এই তরুণী গৃহবধূ স্নেহা চক্রবর্তীর রহস্য মৃত্যুর সমাধান কোন পথে এগোই।