দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করল শিলিগুড়ি পুরনিগম। এ বার ক্রেনের বদলে লোহার বিশেষ ট্রলির সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে মহানন্দা নদীর লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাটে ট্রলি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার ঘাটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন পুরনিগমের প্রশাসক আর বিমলা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা।
গত বছর ক্রেনের সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুরনিগম সূত্রে খবর। দ্রুত ট্রলি বসানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যাতে বিসর্জনের সময় পুজো উদ্যোক্তাদের কোনও অসুবিধা না হয়।
পরিদর্শনের সময় ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রানা মুখার্জি, এসিপি সুবীর কুমার দত্ত, পুরনিগমের কমিশনার বন্দবাসী তেজা দীপক-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।
আর বিমলা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এ বার ক্রেনের পরিবর্তে লোহার ট্রলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিসর্জনের সময় পুজো কমিটিগুলিকে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
অন্য দিকে, নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক পুলিশও। সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানান, বিসর্জন চলাকালীন চুরি ও ছিনতাই রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীদেরও মোতায়েন করা হবে। মহিলাদের নিরাপত্তায় থাকবেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। মহানন্দা সেতুতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যারিকেড বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিমা বিসর্জন। এই চার দিন ঘাটে নিরাপত্তা বজায় রাখা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিঘ্নে বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন করাই পুরনিগম ও পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।