Sunday, November 1, 2026
দক্ষিণবঙ্গ

স্নেহা চক্রবর্তীর রহস্য মৃত্যু। জেল হেফাজতে স্বামী ও শ্বশুর

Published by Newz4 Admin |
বীনা নন্দী দাস Posted by বীনা নন্দী দাস
- October 13, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
স্নেহা চক্রবর্তীর রহস্য মৃত্যু। জেল হেফাজতে স্বামী ও শ্বশুর

বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর:-


গৃহবধূ স্নেহা চক্রবর্তীর রহস্য মৃত্যু ঘিরে শোকস্তব্ধ পরিবার পরিজন থেকে প্রতিবেশী ও সহকর্মীরা! জেল  হেফাজত স্বামী ও শ্বশুরের*

 

 

গত বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরের যমুনাবালি এলাকায় স্নেহার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্নেহার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ স্নেহার আত্মীয় পরিজন থেকে সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা।


 ২০২৫ এর  ডিসেম্বরে ভালোবেসে সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ে হয়েছিল স্নেহা চক্রবর্তী এবং রনদীপ জানার । এক বছর ও টিকলো না। মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই স্নেহার(২৫) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। মেদিনীপুর শহরের যমুনা বালিতে  স্নেহার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্নেহার বাপের বাড়ি মেদিনীপুর শহরেরই ডাকবাংলা রোডে।স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী পেশায় একজন পুলিশ কর্মী। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্নেহার বর রণদীপ জানা ও তার বাবাকে রতন জানা কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। স্নেহার বাবার অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিএমডবলু গাড়ি চাই এই কারণে স্নেহার বাপের বাড়ি থেকে দশ লক্ষ টাকা আনতে চাপ দিয়েছিল স্নেহার স্বামী  রণদীপ। এই গাড়ি কেনা নিয়ে স্নেহার সাথে রণদীপের প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। স্নেহা গাড়ি কিনতে নিষেধ করলেও গত বুধবার গাড়ি কিনে নিয়ে আসে রণদীপ। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে  শ্বশুরবাড়িতে স্নেহার মৃতদেহ পাওয়া যায়। শ্বশুর বাড়ির লোকজন এটাকে আত্মহত্যা বলে, স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তীকে জানান। ঘটনার পর একেবারে ভেঙে পড়েছে স্নেহার পরিবার। মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে স্নেহার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। পুলিশ রণদীপ ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পরেই স্নেহের স্বামী রণদীপ জানাকে চার দিনের পুলিশ হেফাজত ও শশুর রতন জানাকে ১৪ দিনের জেলাতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এরপরই চার দিনের পুলিশ হেফাজত কেটে যাওয়ার পরই পুনরায় আদালত রণদীপকে জেল হেফাজতে পাঠায়। বর্তমানে মৃত স্নেহার স্বামী রণদীপ জানা ও শ্বশুরমশাই রতন জানা জেল হেফাজতে রয়েছে বলেই আদালত সূত্রে জানা যায়।
   

মৃত স্নেহা চক্রবর্তী মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এইচআর পদে চাকরি করতেন। স্নেহার সুন্দর ও মিষ্টি ব্যবহারের জন্য সহকর্মীদের কাছে খুব পছন্দের মানুষ ছিলেন। কলকাতার একটি সংস্থা থেকে হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি নিয়ে মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন। স্নেহার এই রকম  আচমকা মৃত্যুতে সহকর্মী থেকে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজনরা মেনে নিতে পারছেন না। 
       
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় ছিলেন স্নেহা। বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট করতে,রিল বানাতে ভালবাসতেন।নিজের জীবনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত সুন্দর করে সাজিয়ে পোস্ট করতেন ফেসবুকে। বিয়ের সময় মেহেন্দি করা কিংবা সিঁদুর দান সবই পোস্ট করেছিলেন। স্নেহার ফেসবুকের কভার পিকচারে এখনো জ্বলজ্বল করছে স্নেহা ও তার বরের ছবি। স্নেহার  মৃত্যুতে শোকবিহ্বল হয়ে গিয়েছে তার পরিজন, ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বিভিন্নজন ফেসবুকে পোস্ট করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দোষীদের উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি  করেছে।
 

 স্নেহার বাপের বাড়ি মেদিনীপুর শহরে বিধান নগরের ডাকবাংলা রোডে। ২০২২ সাল থেকে সেখানে একটি সর্বজনীন দুর্গা পূজো হয়ে আসছে। ডাকবাংলা রোড সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির পুজো এবার পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করেছে।স্নেহার মৃত্যুতে শোকবিহল পুজো কমিটির কর্মকর্তারা। স্নেহার অবর্তমানে পুজোর আয়োজনেও জাঁকজমক কাটছাঁট করা হয়েছে। পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন নিয়ম মেনে শুধু পুজো হবে আর চন্ডী পাঠ হবে। পুজোর তিন দিন খাওয়া দাওয়া ব্যবস্থা থাকতো। এই বছর সেটা বন্ধ করা হয়েছে। চতুর্থী থেকে পুজোর প্রতি দিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো এটা এখন বন্ধ থাকবে। পুজো কমিটির  ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন। এবছর পুজা কমিটির তরফে সব অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । বাজবে না মাইকও। শুধু আলো জ্বলবে, পুজো হবে, চণ্ডীপাঠ হবে।


    মৃত স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী একজন কলকাতা পুলিশের কর্মী। তিনি কষ্টের সহিত জানান তার মেয়ে স্নেহা কখনো সুইসাইড করতে পারে না। ওকে খুন করে মেরে ফেলা হয়েছে। '


 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement