শিলিগুড়ি: গরু চুরিকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চাঞ্চল্য বাগডোগরার তারাবাড়িতে। এ বার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় গরু পাচারের অভিযোগে সাত জনকে গ্রেফতার করল বাগডোগরা থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে চার জনকে সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে আটক করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শনিবার তারাবাড়ি এলাকায় গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় হরিয়ানার বাসিন্দা শাদ মহম্মদ এবং শাহিদ আখতারের। উত্তেজিত জনতা পাচারকারীদের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয় আরও একটি চারচাকার গাড়ি। ঘটনায় আহত তিন জনকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন জনকে গ্রেফতার করে বাগডোগরা থানার পুলিশ। অন্য দিকে, স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় কয়েক জন অভিযুক্ত সেনা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে চার জনকে আটক করেন সেনা জওয়ানেরা। জিজ্ঞাসাবাদে গরু পাচারের অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
এর পরে সেনাবাহিনীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চার জনকেও গ্রেফতার করে বাগডোগরা থানার পুলিশ। ধৃতেরা হল রাকিব মহম্মদ, নুর মহম্মদ, মহম্মদ আনারুল, মহম্মদ আজাদ, আমির, আরিফ খান এবং আক্রম খান। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কয়েক জন উত্তর দিনাজপুর, বিহার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা।
পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃত সাত জনকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার পর থেকে তারাবাড়ি এলাকায় পুলিশি নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি অনির্বাণ মজুমদার বলেন, ‘‘ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’