শিলিগুড়ি: রাজস্থানের তরুণীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক মাস পর তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করল ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রানা দে (২৬)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফকদইবাড়ির বাসিন্দা রানা। মৃতা শিবানীর বাবা অজিত সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে কাজের সন্ধানে রাজস্থান থেকে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন শিবানী। শহরের একটি পাব অ্যান্ড বারে গান গাইতেন তিনি। সেই সূত্রেই রানা দে-র সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পরে সেই পরিচয় গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। প্রায় আড়াই বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ির একটি পিজিতে শিবানীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার আগের দিন তিনি এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে পিজিতে যাওয়ার পরও রানা দে-র সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলে অভিযোগ। পর দিন ভোরে বন্ধুরা পিজিতে গিয়ে দেখেন, তাঁর ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে শিবানীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
ঘটনার পরই শিবানীর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মেয়ের মৃত্যুর জন্য রানা দে-কে দায়ী করে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভক্তিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বাবা। অভিযোগে তাঁর দাবি, সম্পর্ক চলাকালীন শিবানীকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন রানা। তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি উপার্জনের উপরেও নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করা হত বলে অভিযোগ।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়ায় শিবানীকে নানা ভাবে হয়রানি করা হত। এমনকি রানা দে-র ভাইয়ের বিরুদ্ধেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি শিবানীর পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রানা দে-কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গতকাল ফকদইবাড়ি এলাকা থেকে রানা দে-কে গ্রেফতার করে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিবানীর মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘটনায় আর কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।