নিউজ ফোর ডেস্ক:উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্তজুড়ে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের কোমর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিরাট সাফল্যের কথা সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ নামের এই অভিযানে যুক্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা ও তিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বার্তা দেন, মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। আগামী ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা দেশকে সম্পূর্ণভাবে মাদকজাল মুক্ত করার যে জাতীয় লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তকেন্দ্রিক এই চক্রে আঘাত তারই একটি বড় মাইলফলক।
মাদকচক্রের শেষ চিহ্ন মুছে না যাওয়া পর্যন্ত এই যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই মেগা অভিযানে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮ জন সক্রিয় মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ অক্টোবর অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের মোট ৩৮টি কৌশলগত ও সংবেদনশীল ডেরায় একযোগে সাঁড়াশি হানা চালায় যৌথ তদন্তকারী দল। মূলত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারকে হাতিয়ার করে তথাকথিত ‘ডেথ ট্রায়াঙ্গেল করিডোর’ দিয়ে ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে মাদক পাচারের জাল বিস্তার করেছিল চক্রটি। যৌথ বাহিনীর এই আকস্মিক পদক্ষেপে সীমান্তজুড়ে তাদের বহুস্তরীয় যোগাযোগ সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে পড়েছে।তল্লাশি অভিযানে উঠে আসা নথিপত্রে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্তত ১০০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেনের হদিশ মিলেছে।
পাচারকারীদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে তৎক্ষণাৎ ১,৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে চক্রের প্রায় ১৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। এছাড়া তল্লাশিতে নগদ ১২ লাখ টাকা এবং ৫০০টি সক্রিয় বিস্ফোরক ডেটনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ ডেটনেটর মজুত রাখার নেপথ্যে কোনও উগ্রপন্থী বা নাশকতামূলক যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে চক্রের বাকি চাঁইদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।