শিলিগুড়ি: মহালয়ার আগেই চা শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকল ২০ শতাংশ পুজো বোনাসের টাকা। বোনাসের টাকা হাতে পেয়ে পুজোর মুখে খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিক মহল্লায়। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নির্ধারিত সময়ের আগেই বোনাসের টাকা মেলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শ্রমিকেরা।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের পুজো বোনাস নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল। দুর্গাপুজোর আগে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা থেকে শুরু করে পুজোর নতুন জামাকাপড়—সবকিছুর জন্যই এই বোনাসের দিকে তাকিয়ে থাকেন চা শ্রমিকদের বহু পরিবার। সেই কারণে মহালয়ার আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাওয়ায় শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, পুজোর আগে বোনাসের টাকা পাওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানোর পাশাপাশি সন্তানদের পোশাক, পুজোর বাজার এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে এই টাকা কাজে লাগবে। সময়ের আগে টাকা পাওয়ায় এবারের পুজোর প্রস্তুতিতেও সুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
চা-বাগান শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে প্রতি বছরই আলোচনা ও দর-কষাকষি হয়ে থাকে। চলতি বছরও বোনাসের হার নিয়ে শ্রমিক সংগঠন ও বাগান কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
মহালয়ার আগেই বোনাসের টাকা জমা পড়ায় পুজোর আবহে আরও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে চা-বাগানগুলিতে। শ্রমিকদের বক্তব্য, পুজোর আগে প্রাপ্য টাকা হাতে আসায় পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনেও চা-শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।