Monday, November 2, 2026
আল্ট্রা লোকাল

রেডিও নেই তো কি! মাইকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাজিয়ে মেমারিবাসীর ভোর রাঙালেন বিধায়ক

Published by Newz4 Admin |
সায়নী সরকার Posted by সায়নী সরকার
- October 10, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
রেডিও নেই তো কি! মাইকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাজিয়ে মেমারিবাসীর ভোর রাঙালেন বিধায়ক

সায়নী সরকার: পূর্ব বর্ধমান: ভোর তখন ঠিক চারটে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ আর ঘরে ঘরে রেডিওর সেই চিরচেনা গুঞ্জন শোনা যায় না, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের মোহময় সুরে আগের মতো ঘুম ভাঙার রেওয়াজও যেন ক্রমশ ফিকে হয়ে এসেছে। ঠিক এমন এক প্রেক্ষাপটেই মহালয়ার ভোরে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারিবাসী। এলাকার মানুষকে সেই চিরাচরিত নস্টালজিয়া ফিরিয়ে দিতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন মেমারির বিধায়ক মানব গুহ।

মেমারির বামুনপাড়া মোড় ও চকদিঘি মোড় সংলগ্ন এলাকায় সার দিয়ে বাঁধা হয়েছিল মাইক। ভোর হতেই সেই সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গোটা মেমারি শহর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল রেডিওতে সম্প্রচারিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র অমর সুর। তবে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে পুরো অনুষ্ঠানটি শোনানো হয় নিয়ন্ত্রিত শব্দে।

এই উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিধায়ক মানব গুহ জানান, নতুন সরকারের আমলে এটি প্রথম পুজো। বর্তমান সময়ে অনেকের বাড়িতেই রেডিও নেই, ফলে ইচ্ছা থাকলেও ভোরে উঠে এই অনুষ্ঠান শোনা হয়ে ওঠে না। রেডিওতে সম্প্রচারের ঠিক নির্দিষ্ট সময়েই যাতে এলাকার প্রতিটি মানুষ তা শুনতে পান, সেই কারণেই শহর ও গ্রামে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

বিধায়কের এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত মেমারির সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাপন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ভোরে ওঠার অভ্যাস হারিয়েছে অনেকেই, আবার বেশিরভাগ মানুষ টিভিতে মহালয়া দেখায় অভ্যস্ত। ফলে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আসল স্তোত্রপাঠের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অনেকেরই সেভাবে পরিচয় ঘটে না। বিধায়কের এমন প্রয়াস একদিকে যেমন হারিয়ে যাওয়া নস্টালজিয়া ফিরিয়ে দিল, তেমনই নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল।

 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement