Monday, November 2, 2026
উত্তরবঙ্গ

হিমাচল প্রদেশ থেকে ৬ বছরের নাবালিকাকে এনে ধর্ষণ, দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্ত

Published by Newz4 Admin |
দেবিকা দত্ত Posted by দেবিকা দত্ত
- October 07, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
হিমাচল প্রদেশ থেকে ৬ বছরের নাবালিকাকে এনে ধর্ষণ, দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্ত

দেবিকা দত্ত:শিলিগুড়ি:- হিমাচল প্রদেশ থেকে ৬ বছরের এক নাবালিকাকে ভালো ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিলিগুড়ি সংলগ্ন খড়িবাড়িতে নিজের বাড়িতে এনে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সুনীল ওরাঁওকে দোষী সাব্যস্ত করল শিলিগুড়ি আদালতের পকসো আদালত। বুধবার আদালত অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনানোর পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকাকে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে হিমাচল প্রদেশে কাজ করার সময় সুনীল ওরাঁওয়ের সঙ্গে এক মহিলার পরিচয় হয়। অভিযোগ, ভালো ভবিষ্যৎ এবং পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে ওই মহিলার ৬ বছরের মেয়েকে নিজের সঙ্গে করে খড়িবাড়িতে নিয়ে আসে সুনীল। প্রথমদিকে প্রায় দুই মাস সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সুনীল ওরাঁওকে ৬ বছরের ওই নাবালিকার সঙ্গে ধর্ষণ করতে দেখেন তার স্ত্রী লক্ষ্মী ওরাঁও। ঘটনার পরদিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, স্বামীর বিরুদ্ধে খড়িবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন লক্ষ্মী। অভিযোগের ভিত্তিতে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ সুনীল ওরাঁওকে গ্রেফতার করে এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে তাকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করে।
এরপর প্রায় দুই বছর ধরে শিলিগুড়ি পকসো আদালতে মামলার শুনানি চলে। মামলায় মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য নথির ভিত্তিতে আদালত সুনীল ওরাঁওয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করে। এরপরই আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে।
এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী (পিপি) সুনন্দা সরকার জানান, ভালো ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হিমাচল প্রদেশ থেকে এক মহিলার ৬ বছরের শিশুকন্যাকে সুনীল ওরাঁও খড়িবাড়িতে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। সেখানে নাবালিকার সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের স্ত্রী লক্ষ্মী ওরাঁও ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় একটি এনজিও এবং খড়িবাড়ি থানায় অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
পিপি সুনন্দা সরকার আরও জানান, প্রায় দুই বছর ধরে মামলাটির শুনানি চলে এবং ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকাকে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁর মতে, নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে শিলিগুড়ি পকসো আদালতের এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement