Monday, November 2, 2026
দক্ষিণবঙ্গ

অপসারিত খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, পরবর্তীতে কে জল্পনা তুঙ্গে

Published by Newz4 Admin |
বীনা নন্দী দাস Posted by বীনা নন্দী দাস
- October 05, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
অপসারিত খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, পরবর্তীতে কে জল্পনা তুঙ্গে

পশ্চিম মেদিনীপুর:খড়গপুর পুরসভায় অবশেষে অনাস্থা ভোটে অপসারিত হলেন পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ। সোমবার পুরসভার অনাস্থা বৈঠকে উপস্থিত ২৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৪ জন অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। বাকি চারজন কাউন্সিলর ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে খড়্গপুর পুরসভার বর্তমান পুরপ্রধানের অপসারণের প্রক্রিয়া কার্যকর হলো। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়্গপুরের পুর রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এবার পুরসভার পরবর্তী পুরপ্রধান কে হবেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বৈঠক শেষে উপ-পুরপ্রধান তৈমুর আলী খান জানান, অনাস্থা প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। সোমবার সেই মামলা খারিজ হওয়ার পরই অনাস্থা বৈঠক শুরু করা হয়। আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, আগামী সাত দিনের মধ্যে নতুন পুরপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুজোর আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর খড়্গপুর পুরসভার ১৫ জন কাউন্সিলর পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকারের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরপ্রধান আস্থা প্রমাণের জন্য সভা ডাকেননি। সেই পরিস্থিতিতে পুর আইন মেনে উপ-পুরপ্রধান অনাস্থা বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নেন। যদিও এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সোমবার হাইকোর্টে মামলা খারিজ হওয়ার পর বৈঠকের পথ প্রশস্ত হয়।

এদিনের বৈঠকে মোট ২৮ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, চারজন কাউন্সিলর ভোটদানে অংশ নেননি। তাঁরা হলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নমিতা চৌধুরী, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডি. বাসন্তী, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রীতা পাণ্ডে এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবিতা দেবনাথ। অর্থাৎ, উপস্থিত কাউন্সিলরদের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনেই অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়।

রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এদিনের বৈঠকে বিজেপির কোনও কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না। তবে কংগ্রেস ও সিপিএমের কাউন্সিলররা বৈঠকে উপস্থিত থেকে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। পাশাপাশি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বি. হরিশ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সি. এইচ. বিষ্ণু প্রসাদও বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেন।
প্রদীপ সরকারের বক্তব্য, খড়্গপুরের উন্নয়নের স্বার্থে বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের পাশে থেকে তাঁরা কাজ করতে চান। তাঁর দাবি, পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা আনা হয়েছিল, এদিনের বৈঠকে কাউন্সিলরদের উপস্থিতি এবং ভোটের ফলাফল থেকেই তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, খড়্গপুর পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর এবার নতুন পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে চলেছে। উপ-পুরপ্রধানের ঘোষণামতো আগামী সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় কি না এবং পুজোর আগেই নতুন পুরপ্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement