বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: শুক্রবার ঝাড়গ্রামের কালাঝরিয়ায় থেকে রাজ্যে বিশেষ উপজাতি গোষ্ঠীর পরিবারগুলির পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচির শুভ সূচনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রত্যেক সপ্তাহে পিছিয়ে পড়া লোধা শবর ও আদিবাসী জন জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের বাড়িতে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম থেকে ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রতি সপ্তাহে আদিবাসী জন জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের বাড়িতে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে রাজ্য সরকার। তাদের দেওয়া হবে চাল, ছোলার ডাল মুসুর ডাল, তেল, সয়াবিন। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম থেকে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তে ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে।
এদিন ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ায় লোধা শবর অধ্যুষিত কালাঝরিয়ায় এলাকায় সরকারি কর্মসূচিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই এই জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষদের বাড়িতে পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেশন প্রকল্পের বাইরে এটি একটি অতিরিক্ত প্রকল্প। পুষ্টিকর খাদ্য থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হন, তা নজরে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তফসিলি জনজাতির বার্ধক্য ভাতা বাড়িতে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ২ লক্ষ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার হলে জানান তিনি।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান ঝাড়গ্রামে উন্নয়নে তাঁর সরকার ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সেই বিষয়ে বিগত সরকারকেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন ‘বিগত সরকার কেন্দ্রের বহু কর্মসূচিতে যুক্ত হয়নি। আগের মুখ্যমন্ত্রী গোটা পশ্চিমাঞ্চলে ৬ কোটি টাকার কাজ করেছে। এই সরকার পশ্চিমাঞ্চলকে বঞ্চিত করবে না। পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বও আমার হাতেই। আদিবাদী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা চালু হতে চলেছে। আপনাদের ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দিচ্ছি। জবকার্ড নতুন করে পাবেন।’
সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জঙ্গলমহলে দাঁড়িয়ে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনজাতি গোষ্ঠীর এই প্রকল্পের সূচনা রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।