মহম্মদ শাহজাহান আনসারী: বাঁকুড়া : সাঁওতালি মাধ্যমে বিএড কলেজ চালু করে সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের শিক্ষকতার সুযোগ দেওয়ার দাবিতে পথ অবরোধে শামিল হলেন আদিবাসী পড়ুয়া ও বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের সদস্যেরা। শুক্রবার সকালে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন ধলডাঙ্গা মোড়ে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা। মোড়ের চার দিকের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি, লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে।
সাঁওতালি মিডিয়াম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন সাঁওতালি আদিবাসী গণসংগঠনের উদ্যোগে ওই পথ অবরোধ চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাঁওতালি মাধ্যমে বিএড কলেজ চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করে স্নাতক হওয়ার পরেও বিএড করার সুযোগ না থাকায় শিক্ষক হওয়ার পথে বাধার মুখে পড়ছেন বহু পড়ুয়া। ২০০৭-০৮ সাল নাগাদ সাঁওতালি মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে পড়াশোনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সেই মাধ্যমে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক স্তরের পাঠ শেষ করেছেন বহু পড়ুয়া। ২০২৫ সালেও সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করে অনেকে স্নাতক হয়েছেন। কিন্তু ২০২৬ সাল এসে গেলেও রাজ্যে সাঁওতালি মাধ্যমে বিএড কলেজ চালু হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।বর্তমানে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করার ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। অথচ সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের জন্য সেই মাধ্যমে বিএড করার কলেজ সহ উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করেও শিক্ষকতার কাজের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন তারা।
অবরোধকারীরা বলেন, ২০০৮ সালে সাঁওতালি মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হয়েছিলাম। ২০১২ সালে সাঁওতালি মাধ্যমে হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছি। ২০১৮ সালে ওই মাধ্যমেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিই। তার পরে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেছি। কিন্তু এখনও সাঁওতালি মাধ্যমে বিএড কলেজ চালু হয়নি। ফলে শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে বিএড কলেজ চালুর বিষয়ে সরকারি নির্দেশ জারি করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের লিখিত প্রতিশ্রুতি চান তাঁরা। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।