নিউজ ফোর বর্ধমান : চেহারা বদলে, একগাল চেনা দাড়ি কেটেও পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে পারলেন না বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুল হক। প্রায় এক মাস ফেরার থাকার পর অবশেষে মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ। দুবাইয়ে গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ফের বিদেশে স্থায়ীভাবে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু দেশে পা রাখতেই ধরা পড়ে যান তিনি।
তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি থাকায় প্রথম দিল্লী পুলিশ তাকে আটক করে। খবর দেওয়া হয় বর্ধমান থানায়।
খবর পেয়ে বর্ধমান থানার একটি বিশেষ দল দিল্লি পৌঁছেছে। তাঁকে গ্রেফতার করে বর্ধমানে এনে, বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করেন সাইদুল। অপারেশনের পরেই শিশুটির মৃত্যু হলে চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। পুলিশি তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসে সাইদুলের আসল রূপ।
জানা যায়, তিনি আদৌ কোনো চিকিৎসক নন, বিহার থেকে ভুয়ো ডাক্তারি শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পরে কোনভাবে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নার্সিংহোমে চিকিৎসার নামে অবৈধ কারবার ফেঁদে বসেছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল তাঁর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে এবং কলকাতার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
এর পর থেকেই পলাতক ছিলেন সাইদুল।
তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি করা হয়।