পিউ নন্দী, পুরুলিয়া: ঢাকের শেষ বোল, শঙ্খধ্বনি আর চোখের জলে মাকে বিদায় জানানোর পালা। দেখতে দেখতে ফুরিয়ে গেল পুজোর চারটি দিন। দশমীর বিষণ্ণ দুপুরে উৎসবের রঙের আড়ালে যেন মনখারাপের মেঘ জমল পুরুলিয়া জেলার সর্বত্র। মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর আগে নিয়ম মেনে চলল ঠাকুর বরণ, আর তার পরেই সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন মহিলারা। লাল সিঁদুরে রাঙা হয়ে উঠল একে অপরের মুখ, কিন্তু হাসির আড়ালেও বারবার উঁকি দিল বিদায়ের কষ্ট।
দেবী দুর্গার সামনে প্রদীপ, মিষ্টি আর পান দিয়ে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে মায়েরা প্রার্থনা জানালেন পরিবারের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির। দেবীকে মিষ্টিমুখ করিয়ে, সিঁদুর পরিয়ে, চোখের জলে অনেকেই যেন বলে উঠলেন—আবার এসো মা। এরপর শুরু হল চিরাচরিত সিঁদুর খেলা। লাল পাড় সাদা শাড়িতে সজ্জিত মহিলাদের উপস্থিতিতে পুজোমণ্ডপ ভরে উঠল এক আবেগঘন পরিবেশে। একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে আগামী বছরের জন্য শুভকামনা জানালেন তাঁরা।
কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেই লুকিয়ে রইল একরাশ মনখারাপ। যে মাকে ঘিরে এতদিনের অপেক্ষা, এত আয়োজন, এত আনন্দ—তাঁকেই যে এবার বিদায় জানাতে হবে। ঢাকের শব্দ যত ক্ষীণ হতে থাকল, ততই ভারী হয়ে উঠল মন। কারও চোখের কোণে জল, কারও মুখে নীরবতা। মনে তখন একটাই প্রার্থনা—সব অশুভ শক্তির বিনাশ করে মা যেন সকলের জীবনে সুখের আলো ফিরিয়ে দেন।
জেলা জুড়ে আকাশে দশমীর এই বিষাদমাখা আবহ যেন মনে করিয়ে দিল, উৎসব শেষ হলেও মায়ের প্রতি ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না। উমা কৈলাসে ফিরে যাবেন, আবার অপেক্ষা শুরু হবে একটি নতুন বছরের। আজ বিদায়ের সুরে বুক ভারী হলেও মনের গভীরে রয়ে গেল সেই চিরন্তন আশা—আসছে বছর আবার হবে, আবার মর্ত্যে আসবেন উমা।