নিউজ ফোর বর্ধমান: মহালয়ারবর্ধমানমহালয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই শারদীয়ার আবহে মেতে উঠল বর্ধমান। হাতেগোনা আর কয়েকটা দিন বাকি সকলেই দুর্গাপুজো শুরুর দিন গুনছেন কিন্তু বর্ধমানবাসীর অপেক্ষার অবসান বর্ধমানে শুরু হল দুর্গাপুজো।
অন্যান্য জায়গায় দুর্গাপুজো চার দিনের হলেও বর্ধমানবাসীর কাছে দুর্গাপুজো মানেই যেন এক বাড়তি উন্মাদনা। কারণ বর্ধমানে পুজো চলে নদিন ধরে। প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রীতি চলে আসছে বর্ধমানের।
প্রতিবছরের মত এবছরও বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ধমানে শুরু হল দুর্গাপুজো। পুজো চলবে ন'দিন ধরে।
রাজ আমলের রীতি মেনে রবিবার মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে ঘোড়ার গাড়ি করে, বাদ্যযন্ত্র সহকারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে কৃষ্ণসায়ের চাঁদনীঘাট থেকে রুপোর ঘটে করে জল নিয়ে এনে তা প্রতিষ্ঠা করা হল সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। এদিনের পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু,মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র সহ একাধিক মঠ ও মিশনের মঠাধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।
১৭০২ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদ স্বপ্নাদেশ পেয়ে চুনুরীদের কাছ থেকে দেবী সর্বমঙ্গলাকে উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন মন্দিরে।এখানে দেবী কষ্টিপাথরের, অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে মায়ের পুজোয় আজও সেই সাবেকি রাজকীয় ধারা অক্ষুণ্ণ।
আজও প্রতি বছর চিরাচরিত প্রথা মেনে মহালয়ার পরে প্রতিপদে দেবীর ঘটে জল ভরা হয়।৯ দিন ধরে চলবে মায়ের পুজো। তার সাথে হবে চণ্ডীপাঠ। নবমীর দিন নবকুমারী পুজোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় পুজো।এছাড়াও বছরের প্রতিদিনই নিয়ম মেনে দেবীর পুজা হয়, দেবীকে ভোগ নিবেদনও করা হয়।
প্রতিপদ থেকে শুরু করে টানা নয় দিন ধরে চলবে চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ আরাধনা। আগে সন্ধি পুজোয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগা হতো। সেই কামানের আওয়াজ শুনেই আশেপাশের এলাকার জমিদার বাড়িতে শুরু হত সন্ধিপুজো। পাশাপাশি চলত মহিষ, মেষ ও ছাগ বলি। ১৯৯৭ সালে একটি দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় কামান দাগার প্রথা, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্ধ হয়েছে পশু বলি প্রথাও।কিন্তু ঐতিহ্য ও আন্তরিকতায় ভাঁটা পড়েনি এতটুকু।
আজও সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুজোকে ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেন বর্ধমানবাসী। ঘট উত্তোলনের দিন সকাল থেকেই মহিলা-পুরুষ ছোট থেকে বড় বহু মানুষ নতুন পোশাকে হাজির হন সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে।