সুমন সাহা:বারুইপুর: সাত বছরের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক মা। ঝাড়গ্রামের ঘাগড়া জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে আচমকাই ঘটে যায় এই বিপত্তি। পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে জলের স্রোতে তলিয়ে যান বারুইপুরের এক গৃহবধূ। তাঁর নাম প্রীতি দত্ত। ছেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি স্বামী রাজদীপ দত্ত। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ প্রীতির কোনও সন্ধান মেলেনি। এই ঘটনায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বারুইপুরের বেনিয়াডাঙ্গা এলাকায় নেমে এসেছে উদ্বেগের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বেনিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত। স্ত্রী প্রীতি দত্ত এবং সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে শনিবার ঝাড়গ্রামের ঘাগড়া জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারটি ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসত। সেই ভালো লাগা থেকেই পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু আনন্দের সেই ভ্রমণ যে মুহূর্তের মধ্যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ।
স্থানীয় পরিস্থিতি ও পরিবারের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জলপ্রপাতের কাছে বসে পা ঝুলিয়ে ছিল তাঁদের সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কর দত্ত। সেই সময় আচমকাই পা ফস্কে জলে পড়ে যায় সে। চোখের সামনে ছেলেকে বিপদের মুখে পড়তে দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি মা প্রীতি দত্ত। সন্তানকে বাঁচানোর তাগিদে সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন তিনি। ছেলেকে উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবা রাজদীপ দত্তও।
এরপর শুরু হয় চরম উৎকণ্ঠার মুহূর্ত। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জলে নেমে রাজদীপ কোনওক্রমে ছেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রবল জলের স্রোতে তলিয়ে যান প্রীতি। চোখের সামনে স্ত্রীকে জলের মধ্যে হারিয়ে যেতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েন রাজদীপ। ছেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও স্ত্রীকে আর খুঁজে পাননি তিনি।
ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ প্রীতি দত্তের সন্ধান নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করছেন। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধানে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রীতি ও রাজদীপ দু’জনেই বেড়াতে ভালোবাসতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে প্রিয়ঙ্কর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত কাটাতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা ভাবতেও পারেননি কেউ।
সাত বছরের সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের এই মরিয়া চেষ্টা এবং তার পরিণতিতে প্রীতির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বারুইপুরের বেনিয়াডাঙ্গা এলাকায়। একদিকে দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি, অন্যদিকে নিখোঁজ গৃহবধূর কোনও সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা। এখন সকলের একটাই অপেক্ষা—কোনওভাবে প্রীতির সন্ধান মেলে কি না।
মর্মান্তিক ঘটনা! ছেলেকে বাঁচাতে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মা।
Published by Newz4 Admin
|
Posted by সুমন সাহা
-
October 03, 2026
Posted by সুমন সাহা
— বিজ্ঞাপন —
— বিজ্ঞাপন —