দেবিকা দত্ত:শিলিগুড়ি: বাগডোগরার তারাবাড়িতে গরু চুরি বা পাচারের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এবার স্থানীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল বাগডোগরা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চোপড়া ও হরিয়ানার বাসিন্দা দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে সোমবার তারাবাড়ি এলাকা থেকেই রাহুল সাইবো (৩১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত তারাবাড়িরই বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাহুলের নাম তদন্তকারীদের সামনে আসে। গণপিটুনির ঘটনায় তাঁর যোগ থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে নজরদারি চালানোর পর সোমবার তাঁকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।
মঙ্গলবার ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে রাহুলকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বাগডোগরা থানার পুলিশ। পুলিশের অনুমান, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত আরও বেশ কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিল, কারা হামলায় জড়িত ছিল এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে কোনও সংগঠিত পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গণপিটুনির ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ফরেনসিক তদন্ত। সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেনসিক দলের আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা এবং ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গরু চুরি বা পাচারের সন্দেহকে কেন্দ্র করে তারাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনার মধ্যেই গণপিটুনির ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনায় একাধিক গাড়িতেও হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এরপরই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামে পুলিশ।
এখন রাহুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে। গণপিটুনির সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কারা ছিলেন, হামলায় কারা সরাসরি যুক্ত এবং ঘটনার পিছনে আরও কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তের পরবর্তী ধাপ এগোচ্ছে।