Sunday, November 1, 2026
আল্ট্রা লোকাল

বিষাদের সুরে চলছে মাকে বিদায়ের পালা! গান্ধী ঘাটে চলছে কড়া নিরাপত্তায় প্রতিমা নিরঞ্জন

Published by Newz4 Admin |
বীনা নন্দী দাস Posted by বীনা নন্দী দাস
- October 21, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
বিষাদের সুরে চলছে মাকে বিদায়ের পালা! গান্ধী ঘাটে চলছে কড়া নিরাপত্তায় প্রতিমা নিরঞ্জন

বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর:বিষাদের সুরে উমাকে বিদায় জানানোর পালা। চার দিন ধরে পুজোর আনন্দ, উৎসব ও উচ্ছ্বাসে মেতে থাকার পর বিজয়া দশমীর দিন থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব। বুধবার মেদিনীপুর শহরের কাঁসাই নদীর গান্ধী ঘাটে সকাল থেকেই একের পর এক প্রতিমা নিরঞ্জন করা হচ্ছে। বাড়ির পুজো এবং শহরের ছোট ছোট পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে ঘাটে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি ও বিষাদের আবহে মাকে বিদায় জানাতে হাজির হয়েছেন ভক্তরা। তাঁদের কণ্ঠে একটাই প্রার্থনা—‘আসছে বছর আবার এসো মা।’

প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে মেদিনীপুর পৌরসভা। গান্ধী ঘাটে পৌরসভার পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ হাইড্রোলিক ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার সাহায্যেই একের পর এক প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ চলছে। এর ফলে নিরঞ্জন প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ঘাটে রাখা হয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা।

পুলিশের পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও। মোতায়েন রয়েছেন পৌরসভার আধিকারিক ও কর্মীরা। তাঁদের সম্মিলিত তৎপরতায় প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমে ঘাটে আগত দর্শনার্থী ও পুজো উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মূলত বাড়ির পুজো এবং শহরের ছোট ছোট পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা নিরঞ্জন করা হচ্ছে। মেদিনীপুর শহরের বড় বড় পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা নিরঞ্জন হবে আগামীকাল। ফলে বৃহস্পতিবারও গান্ধী ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মেদিনীপুর শহরে বাড়ির পুজো থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিভিন্ন পুজো কমিটি মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক প্রতিমার পুজো হয়। এত বিপুল সংখ্যক প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে ঘাটের ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কথা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে পৌরসভা ও প্রশাসন। নিরঞ্জনের কাজ যাতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সব দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।

এদিন প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমাশাসক এবং মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক দল। তাঁদের উপস্থিতিতে নিরঞ্জন ঘাটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং পৌরসভার আধিকারিক ও কর্মীদের সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলে প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ।

একদিকে প্রশাসনের তৎপরতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আবেগ—দুইয়ের মেলবন্ধনে গান্ধী ঘাটে এদিন তৈরি হয় এক বিশেষ পরিবেশ। মায়ের বিদায়ে মন ভারাক্রান্ত হলেও আগামী বছর ফের আনন্দের উৎসবে মাতার আশায় বুক বাঁধছেন শহরবাসী। বিজয়ার বিষাদমাখা মুহূর্তে তাই সবার মুখে একটাই কথা—‘আসছে বছর আবার হবে, আবার আসবেন মা দুর্গা।’

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement