দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর আগে চিকেন নেক করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থা। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরে সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলায় প্রস্তুতি যাচাই করতে শুক্রবার শিলিগুড়ির গুরং বস্তি এলাকায় মহানন্দা সেতুর নীচে যৌথ মহড়া করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ড্রোন হামলার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ, উদ্ধারকাজ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখাই ছিল এই মহড়ার উদ্দেশ্য।
বিএসএফের ৪৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহড়ায় অংশ নেয় পুলিশ, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-সহ একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা। মহানন্দা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত মোকাবিলার প্রস্তুতির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিপদের মধ্যে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্ধার করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিও যাচাই করা হয়।
মহড়া পরিদর্শন করেন বিএসএফের সেক্টর সদর দফতরের ডিআইজি হরপাল সিং। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মহড়ার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
মহড়ার পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে হরপাল জানান, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রস্তুতি মজবুত করতে নিয়মিত এই ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় প্রতি মাসে মহড়ার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা এবং পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা চলে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন চিকেন নেক করিডর দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের উপর দিয়েই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ গিয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও পরিকাঠামোর নিরাপত্তা, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পুজোর মরশুমের আগে মহানন্দা সেতুর নীচে এই যৌথ মহড়াকে সেই প্রস্তুতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।