অনন্যা দে, আলিপুরদুয়ার: সময় বদলেছে, বদলেছে উৎসব উদযাপনের ধরনও। হারিয়ে গিয়েছে কবিগান ও পালাগানের আসর। কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যের বন্ধনে আজও অটুট হ্যামিল্টনগঞ্জের সাহা বাড়ির লক্ষ্মীপুজো। সোনার অলংকারে সজ্জিত ১১ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমা, ৫০ রকমের প্রসাদ এবং প্রাচীন রীতিনীতি—সব মিলিয়ে এই পুজো আজও ডুয়ার্সের অন্যতম আকর্ষণ।
আলিপুরদুয়ার জেলার হ্যামিল্টনগঞ্জের শ্যামাপ্রসাদ কলোনিতে গত ৮২ বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই পুজো। জানা যায়, বাংলাদেশের ঢাকায় হরচন্দ্র সাহার হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। দেশভাগের পর ভিটেমাটি ছেড়ে আসতে হলেও ঐতিহ্যকে বিসর্জন দেননি তাঁর উত্তরসূরিরা। নতুন ঠিকানা হ্যামিল্টনগঞ্জে শুরু হয় লক্ষ্মীপুজো। সেই ধারাই আজও বহন করে চলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
একসময় এই পুজোকে কেন্দ্র করে টানা সাত দিন ধরে বসত কবিগান ও পালাগানের আসর। ষাটের দশকে আয়োজিত হতো আরতি প্রতিযোগিতাও। বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হতো সোনার পদক। সময়ের সঙ্গে সেই রীতিতে পরিবর্তন এলেও আরতি প্রতিযোগিতা এখনও চালু রয়েছে। প্রতিমার সোনার অলংকার থেকে শুরু করে পদ্মফুল ও ধানের শিষের মতো পুজোর উপকরণে আজও ফুটে ওঠে ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
পরিবারের সদস্য নারায়ণচন্দ্র সাহা জানান, এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের মিলনমেলাও। বর্তমানে পুজোকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। দেশভাগের স্মৃতি পেরিয়ে ৮২ বছর ধরে সাহা বাড়ির এই লক্ষ্মীপুজো প্রমাণ করে, সময় বদলালেও ঐতিহ্যের শিকড় সহজে মুছে যায় না।