দেবিকা দত্ত:শিলিগুড়ি: পুজোর আগে রেলপথে মাদক পাচার রুখতে নজরদারি বাড়িয়েছে জিআরপি। তারই মধ্যে এনজেপি রেলওয়ে স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৩৫ কেজি গাঁজা। পুলিশ সূত্রে খবর, ৩০টি প্যাকেটে ভরে ট্রলি ব্যাগে করে ওই গাঁজা নিয়ে এসেছিল দুই যুবক। হাতবদলের আগেই জিআরপির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এবং এনজেপি জিআরপির যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে যায় তারা।
ধৃতদের নাম উজ্জ্বল পাসওয়ান (২২) এবং উজ্জ্বল চন্দ্র (২১)। দু’জনেই অসমের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার অসম থেকে ট্রেনে এনজেপিতে পৌঁছেছিল ওই দুই যুবক। তার পর ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তাদের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ দিন দুপুরে ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তল্লাশি চালায় জিআরপি এসওজি এবং এনজেপি জিআরপির যৌথ দল। সেই সময় দুই যুবককে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁদের আটক করা হয়। তল্লাশি চালাতেই ট্রলি ব্যাগের ভিতর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে ৩০টি প্যাকেট। সেগুলির ভিতরে ছিল গাঁজা। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মাদকের ওজন প্রায় ৩৫ কেজি। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অসম থেকে গাঁজা নিয়ে ট্রেনে এনজেপিতে এসেছিল ওই দুই যুবক। স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কারও হাতে সেই মাদক তুলে দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই জিআরপির অভিযানে পাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
রেলপথকে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও খোঁজখবর শুরু করেছে জিআরপি। ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁদের মাদক পাচারের নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, অসম থেকে মাদক কী ভাবে এনজেপি পর্যন্ত পৌঁছল, কার কাছে তা হস্তান্তরের কথা ছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না—এই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত দুই যুবককে আগামীকাল জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে।