সোনারপুর: আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষ*ণের শিকার এক বধূ। স্বামীকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে গলায় ছুরি ধরে খুনের হুমকি দিয়ে ধর্ষ*ণের অভিযোগ উঠল। শুক্রবার গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম এলাকায়। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই সোনারপুর থানায় ধর্ষ*ণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত-সহ বাকিরা এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে সুভাষগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন ওই বধূ। রাত দেড়টা নাগাদ আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অন্য একটি বাড়িতে ঘুমোতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই সময় পাঁচজন তাঁদের পিছু নেয়। এরপর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্তরা। প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান স্বামী। অভিযোগ, এরপর ওই বধূকে একটি ঘরের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন তাঁর হাত-পা চেপে ধরে এবং একজন তাঁকে ধর্ষ*ণ করে বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার গলায় ছুরি ধরে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। বাকিরা এই অপরাধে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চলার পর কোনওরকমে অভিযুক্তদের হাত থেকে পালিয়ে অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন নির্যাতিতা। শনিবার সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষ*ণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সুভাষগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। প্রতিদিন রাতে বহিরাগতদের নিয়ে এসে মদ ও গাঁজার আসর বসানো হয় বলে অভিযোগ। স্টেশন চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যেই বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি হয় বলেও দাবি বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় কাউন্সিলর এবং পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশের একাংশের মদতেই মাদকের কারবার চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ঘটনার পর থেকে নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং এলাকায় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখন প্রশ্ন, জনবহুল সুভাষগ্রাম এলাকায় এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও মূল অভিযুক্তরা কেন অধরা? কবে গ্রেফতার হবে বাকিরা? আর রাতের সুভাষগ্রামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন?