বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: বিয়ের কয়েক মাস পরেই শ্বশুরবাড়িতে তরুণী বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেদিনীপুর শহরের যমুনাবালি এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায় মৃতার নাম স্নেহা চক্রবর্তী(২৫)। বাড়ি মেদিনীপুর শহরেরই ডাকবাংলো রোড এলাকায়। মৃত স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী কলকাতা পুলিশের লালবাজারে কর্মরত। বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ে স্নেহার উপর জামাই রণদীপ জানা তার বন্ধু বাশার এবং রনদীপের বাবা রতন জানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মানসিক এবং শারীরিক ভাবে অত্যাচার করতো। মৃত্যুর আগের দিন বিএমডাব্লিউ গাড়ি কেনা নিয়ে বচসা হয় স্নেহার সাথে রণদীপের। মৃত স্নেহার বাবা আরো জানান, মেয়েকে আমার কাছ থেকে ১০লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপও দেওয়া হয়েছিল। মেয়ে গাড়ি কিনতে নিষেধ করা সত্ত্বেও রণদীপ তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গাড়ি কিনে নিয়ে আসে। রাতে রনদীপ এবং তার বন্ধু বাশার মিলে মেয়েকে মারধর করে। পরের দিন মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আত্মহত্যা করেছে বলে চালানোর চেষ্টা করলেও। কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাকে খুন করে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মৃত মেয়ের বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃত মেয়ের বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রণদীপ সহ শ্বশুর বাড়ির দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য, গতবছর ডিসেম্বর মাসে ভালোবাসা করে সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল স্নেহা ও রণদীপের মধ্যে। সেইসময় যৌতুক হিসেবে সবই দিয়েছিল বলে দাবি স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী । এরপরেও মাঝে মাঝেই অত্যাচার করত স্নেহার শ্বশুরবাড়ির লোক।কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুই পরিবার বহুবার মীমাংসা করে মেয়েকে বুঝিয়ে সুজিয়ে সংসার করতে বলেছিলেন। অবশেষে মেয়েকে খুনই করে দিল রণদীপ ও তার পরিবার এবং বন্ধু বশার। অবিলম্বে রণদীপ ও তার পরিবার এবং বন্ধু বাশার এর কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী।