দেবিকা দত্ত:শিলিগুড়ি: পুজোর কেনাকাটা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মা ও ছেলে। কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে দেখলেন, দরজার তালা ভাঙা। ঘরের ভিতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে জিনিসপত্র। আলমারি ও সিন্দুক খুলতেই মাথায় হাত পরিবারের সদস্যদের। সোনা-রুপোর গয়নার পাশাপাশি উধাও লক্ষাধিক টাকা। দুর্গাপুজোর আগে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লর্ড আদর্শ নগরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খালপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লর্ড আদর্শ নগরের বাসিন্দা গৌতম সরকারের স্ত্রী সুষ্মিতা দাস সরকার গত মঙ্গলবার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পুজোর কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন। বিকেল ৪টে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত ৯টা নাগাদ ফেরেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। বাড়ির লোকজন না থাকার সুযোগে আলমারি ও সিন্দুক থেকে মূল্যবান সামগ্রী এবং নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
বাড়ি ফিরে দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান সুষ্মিতা। ভিতরে ঢুকে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে আলমারি ও সিন্দুক পরীক্ষা করে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। সোনা-রুপোর গয়না এবং নগদ টাকা খোয়া যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে।
সুষ্মিতা দাস সরকারের অভিযোগ, পুজোর কেনাকাটা করতে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বাড়ি ফাঁকাই ছিল। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে চুরি করে। অন্যদিকে, গৌতম সরকারের শেঠ শ্রীলাল মার্কেটে একটি ছোট দোকান রয়েছে। পুজোর মরশুমে দোকানের জন্য সামগ্রী কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়িতে টাকা রেখেছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, সেই টাকাও চুরি গিয়েছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর আগে শহরবাসীকে সতর্ক করেছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি ফাঁকা রেখে বাইরে না যাওয়া, সম্ভব হলে বাড়িতে কাউকে রেখে যাওয়া এবং বেড়াতে যাওয়ার তথ্য সমাজমাধ্যমে প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অপব্যবহার করে দুষ্কৃতীরা ফাঁকা বাড়ি চিহ্নিত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন পুলিশ কমিশনার।
পুজোর কেনাকাটার মরশুমে ফাঁকা বাড়িতে চুরির এই ঘটনায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খালপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চুরি যাওয়া গয়না ও নগদ টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।