দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: বিলাসবহুল গাড়ির বনেটের নীচে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে সোনা পাচারের অভিযোগ। সেই চেম্বার থেকেই উদ্ধার হল চারটি সোনার বিস্কুট। রবিবার সন্ধ্যায় গোসাইপুরের ধর্মকাঁটা অয়্যাপ্পা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পেল বাগডোগরা থানার পুলিশ। ঘটনায় বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম সাবন কুমার (২৯) ও রমন কুমার (২৭)। তাঁদের বাড়ি বিহারের সহরসা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর আসে, শিলিগুড়ি থেকে বিহারে সোনা পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতে গোসাইপুর এলাকায় নজরদারি শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। সিলিগুড়ি থেকে বিহারের দিকে যাওয়া একটি কালো রঙের বিহার নম্বরের ফর্চুনার গাড়ি দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই বনেটের নীচে তৈরি বিশেষ চেম্বার থেকে উদ্ধার হয় চারটি সোনার বিস্কুট।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ৪৬৬ গ্রাম। সেগুলির বাজারমূল্য কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনার বৈধ নথিপত্র চাওয়া হলে গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি তা দেখাতে পারেননি বলে পুলিশের দাবি। এরপরই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। সোনা-সহ গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সিলিগুড়ি থেকে বিহারে সোনা পাচারের পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় তা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই প্রধাননগর থানার সাদা পোশাকের পুলিশ জংশন এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে সোনার বিস্কুট-সহ গ্রেফতার করেছিল। পরপর এমন ঘটনায় সিলিগুড়ি ও বিহারের মধ্যে সোনা পাচারের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে উদ্ধার হওয়া সোনার উৎস এবং পাচারচক্রের সম্ভাব্য যোগ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগডোগরা থানার পুলিশ।