দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশের ব্যাপক নজরদারির মধ্য দিয়ে শিলিগুড়িতে শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হল এবারের দুর্গাপুজো। ষষ্ঠী থেকে নবমী—চার দিন শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর সামনে আসেনি। তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও পুরোপুরি দুর্ঘটনামুক্ত থাকল না শহর। পুজোর চার দিনে আটটি পথ দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, পুজোর পরিবেশে অশান্তি সৃষ্টি, মদ্যপ অবস্থায় হাঙ্গামা, মারামারি এবং মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে মোট ২৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও খামতি রাখতে চায়নি পুলিশ কমিশনারেট। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনবহুল এলাকা এবং পুজোমণ্ডপে প্রায় দুই হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। নজরদারি জোরদার করতে এসপি পদমর্যাদার বিশেষ আধিকারিকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নাইট ভিশন ক্যামেরার সাহায্যে রাতের অন্ধকারেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালানো হয়।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। গভীর রাত পর্যন্ত বুলেট মোটরবাইকে চড়ে শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাকেশ সিংও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন।
মহিলাদের নিরাপত্তায় সক্রিয় ছিল উইনার্স বাহিনী ও পিঙ্ক পেট্রোলিং ভ্যান। ভিড়ের মধ্যে ছিনতাই, পকেটমারি এবং মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ রুখতে বিশেষ দলও মোতায়েন করা হয়েছিল। পুজোর দিনগুলিতে শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাতটি থানার পুলিশ একযোগে অভিযান চালায়।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাকেশ সিং জানান, পুজোর চার দিনে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ২৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় হাঙ্গামা, ঝগড়া-মারামারি, মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ-সহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর ছিল পুলিশের। নবমীর রাতে জংশন ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। বাইকে পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহার করে শব্দদূষণ সৃষ্টির অভিযোগে কয়েকটি সাইলেন্সার বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চালানও কাটা হয়।
তবে এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও পথ দুর্ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর চার দিনে শহরে মোট আটটি পথ দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। একটি দুর্ঘটনা এনজেপি থানার অধীনে এবং অন্যটি শিলিগুড়ি থানার অধীনে ঘটেছে।
সব মিলিয়ে, ব্যাপক পুলিশি মোতায়েন, নিয়মিত টহল এবং নজরদারির জেরে শিলিগুড়িতে দুর্গাপুজো মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উৎসবের দিনগুলিতে গ্রেফতারির সংখ্যা এবং পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।