Sunday, November 1, 2026
দক্ষিণবঙ্গ

বর্ধমানে চোরবাগানে নিহতের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

Published by Newz4 Admin |
সায়নী সরকার Posted by সায়নী সরকার
- October 20, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
বর্ধমানে চোরবাগানে নিহতের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

নিউজ ফোর পূর্ব বর্ধমান: স্কুল যাওয়ার পথে মণ্ডপ তৈরির তোড়জোড় দেখেতো রোজ,পুজোয় বাড়ি ফিরে যার মেতে ওঠার কথা ছিল বন্ধু আর পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে,রবিবার গ্রামে ফিরল সেই ছোট্ট সন্দীপের নিথর দেহ। সঙ্গে ফিরল তার মায়ের দেহও।কলকাতার চোরবাগান পুজোমণ্ডপের দুর্ঘটনায় এক লহমায় তছনছ হয়ে গেল পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বেজ পরিবার। মঙ্গলবার সন্দীপের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি। 

 

​মা-কে ছেড়ে থাকতে পারবে না বলেই মা ও দিদির সাথে কলকাতা যাওয়া,ফিরল মা ও ছেলের নিথর দেহ। স্থানীয় বারপুর পাষণ্ডা হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল সন্দীপ,বরাবরই ছিল গ্রামের চোখের মণি। কলকাতায় খেলার সঙ্গী পাওয়া যাবে না বলে মন থেকে যাওয়ার ইচ্ছেই ছিল না তার কিন্তু মা-কে ছেড়ে একা থাকতে পারবে না বলে গত বৃহস্পতিবার মা, দিদির হাত ধরে রওনা দিয়েছিল সে। সঙ্গে ছিল তার মামিও, সকলে মিলে একসঙ্গে কলকাতায় গেছিলেন ঠাকুর দেখতে।কিন্ত এক লহমায় বদলে যায় সবকিছু,শনিবার চোরবাগানে ভিড়ের চাপে ঘটে যায় সেই ভয়াবহ বিপর্যয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সন্দীপ,তার মা ও মামির। কোন রকমের প্রাণের বেঁচে যান দিদি আগমনী বেজ।

আগমনী বলেন,"প্রচুর চাপ ছিল, মা হঠাৎ আমার কাঁধে মাথা রাখল। ভেবেছিলাম মা হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে, তারপর আমিও অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি মা আর ভাই কেউ বেঁচে নেই।" সপ্তমীর রাতে গ্রামে এই দুঃসংবাদ পৌঁছাতেই বন্ধ হয়ে যায় পাঁচটি গ্রামের মিলনক্ষেত্র 'পঞ্চগ্রাম দুর্গাপুজো'-র সমস্ত আনন্দ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

শোকার্ত পরিবারটির সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের হাতে তুলে দেন চেক।পাশাপাশি সন্দীপের দিদি আগমনীর মাথায় হাত রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং তাকে সরকারি চাকরির দেওয়ার আশ্বাস দেন।নিহতদের ছবিতে মাল্যদান করে তিনি বলেন, “কাউকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাদের দেননি, কিন্তু শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করাই আমাদের ধর্ম।”

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে,যাতে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি আরও জানান, যেহেতু পুজোমণ্ডপে অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং পুলিশ, তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে এই দুটি সংস্থাকে তদন্ত প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেই সত্য সামনে আনা হবে।

 

সন্দীপের বাবা সঞ্জয় বেজ বলেন,"হারানো স্বজনকে তো আর ফিরে পাব না, তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘরে এসে যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে এই অন্ধকার সময়ে বাঁচার মতো কিছুটা মানসিক বল পেলাম।" এখন শুধু একটাই প্রশ্ন পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামবাসীদের,কার অবহেলায় এভাবে অকালে ঝরে গেল এতগুলো তাজা প্রাণ?  

 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement