Sunday, November 1, 2026
আল্ট্রা লোকাল

মায়ের পুজোয় ক্ষীরের ভোগ দিতে বিশাল পরিমাণ দুধের জোগান কীভাবে করেন ভট্টাচার্য পরিবার!

Published by Newz4 Admin |
বীনা নন্দী দাস Posted by বীনা নন্দী দাস
- October 17, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
মায়ের পুজোয় ক্ষীরের ভোগ দিতে বিশাল পরিমাণ দুধের জোগান কীভাবে করেন ভট্টাচার্য পরিবার!

বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: ২২৫ বছর আগে পুকুর খননের সময় উঠে এসেছিল কষ্ঠিপাথরের মহিষমর্দিনী মূর্তি। সেই থেকেই পুজোর শুরু হয় সবংয়ের বলপাই গ্রামের ভট্টাচার্য পরিবারে। ২৫ বছর আগে মূর্তি পুজোর প্রচলন করেন পরিবারের 'বড়কর্তা' কৃষ্ণপ্রসাদ ভট্টাচার্য। বলপাই পশুপতি সুরেন্দ্র বিদ্যাপীঠের তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কৃষ্ণপ্রসাদ ভট্টাচার্য এর আদর্শকে পাথেয় করেই পুজোর একটা দিন এলাকার শিক্ষক, শিক্ষাব্রতী ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধিত করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, এই ভট্টাচার্য বাড়ির পুকুর খননের সময় উঠে আসা কষ্ঠিপাথরের মহিষমর্দিনী মূর্তি দিয়েই পুজো শুরু হয়েছিল প্রায় ২২৫ বছর আগে। এই বার ২২৬ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। মহিষমর্দিনীই আমাদের কুলদেবতা। বর্তমানে আলাদা করে দুর্গামন্দির করা হয়েছে। সেখানে পুজো হয়। প্রায় একমাস ধরে বাড়িতে এসে মা দুর্গার মূর্তি গড়েন শিল্পী। তৈরি করা হয়েছে ভোগমন্দিরও। বাড়ির মহিলাদের হাতে তৈরি ভোগই মাকে নিবেদন করা হয়। নবমীর দিন অন্নভোগ গ্রহণ করতে আসেন আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সবং, মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন পরিবারের শতাধিক সদস্য ও আত্মীয়-পরিজনেরা।

 তবে, ২২৬ বছরের এই দুর্গাপুজো এখন বর্তমানে এই এলাকার একটি সর্বজনীন দুর্গোৎসবে পরিণত হয়েছে। পূজোর দিনগুলিতে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে। ষষ্ঠীর দিন বাড়িতে বেল গাছে ঘট তুলে নিয়ে ষষ্ঠী পূজা করা হয়। এরপরই সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান করিয়ে সপ্তমী পূজা শুরু হয়। সপ্তমী থেকেই মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়, ভোগ নিবেদন করেন বাড়ির মহিলারা। তার আবার বিশেষ নিয়ম, যেমন সপ্তমীতে সাতটা পদে রান্নার ভোগ দেওয়া হয় অষ্টমীতে আটটা নবমীতে নটা এবং দশমীতে দশটা পদের রান্না করে মাকে ভোগ দেওয়া হয়। সমস্ত নিরামিষ ভোগ থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত থাকেন ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যরা। যেমন দুস্থদের বস্ত্র বিতরণ রক্তদান সহ একাধিক সামাজিক কাজ করে থাকেন এই পরিবার। দশমীর বিদায় বেলায় মাকে বিসর্জনের আগে আতশবাজি ফাটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির সেই প্রতিষ্ঠিত পুকুরে। প্রতিদিনই এলাকার প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ভোগ খেতে আছেন এই ভট্টাচার্য পরিবারের পুজোয়।


বর্তমানে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠকর্তা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণ প্রসাদ ভট্টাচার্য জানান পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বেশির ভাগই দেশের বাইরে থাকেন এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূত্রে থাকেন। কিন্তু বছরে এই দুর্গপূজোর সময় এই দেশের বাড়ি সবংয়ের বলপাইতে পুজো অনুষ্ঠানে অনেকেই আসেন। আনন্দও অনেক হয়, পরিবারের সবাইকে কাছে পেয়ে। তবে এই পরিবারের পুজো এখন শুধু পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এটা এখন গ্রামের মানুষের পুজো হয়ে গেছে এবং এই মায়ের কাছে নাকি মানত করলে আশা পূরণ হয়। তাই গ্রামের বহু মানুষ এই মায়ের ভক্ত এবং এই পুজোর সময়  ভক্তরা কিন্তু যথেষ্ট সহযোগিতা করে বিভিন্নভাবে।একেবারেই বলা যেতে পারে সবংয়ের বলপাইতে এই ভট্টাচার্য পরিবারের দুর্গাপুজো বহু ঐতিহ্য ও স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement