পিউ নন্দী: পুরুলিয়া: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে বিভিন্ন দফতরের দরজায় ঘোরার ঝক্কি কমাতে বলরামপুরে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ‘সেবা সেতু’ শিবির। গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বলরামপুর কিষাণ মান্ডি চত্বরে রাজ্য সরকারের ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার শিবিরের সূচনা করেন পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক সুধীর কোন্তম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলরামপুর বিধানসভার বিধায়ক জলধর মাহাতো, বিডিও কিশোর মণ্ডল-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।
এক জায়গা থেকেই যাতে সাধারণ মানুষ একাধিক সরকারি পরিষেবার সুবিধা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই শিবিরে ২৩টি সরকারি দফতরকে যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি উপভোক্তা নথিভুক্তকরণ, নথি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা সংক্রান্ত কাজও চলছে শিবিরে।
বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা থেকে শুরু করে অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন, আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষক বন্ধু, ফসল বিমা এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা মিলছে একই ছাতার তলায়। সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শিবিরে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রশাসনের দাবি, প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সরকারি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের শিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শুধু পরিষেবা প্রদান নয়, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথাও সরাসরি শোনা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিন পুজোর আগে এলাকার পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক বার্তা দেন প্রশাসনিক আধিকারিক। জেলা পরিষদ, পূর্ত দফতর ও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলির দ্রুত মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বলরামপুর কিষাণ মান্ডিকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং স্থানীয় কমিউনিটি হলের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানানো হয়েছে।
‘সেবা সেতু’ শিবির ঘিরে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সরকারি পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া।