দেবিকা দত্ত, শিলিগুড়ি: হোটেলের বাইরে অশ্লীল মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় মারধরের অভিযোগ। সেই ঘটনার রেশ গড়াল শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও। আহতদের চিকিৎসা চলাকালীন হাসপাতালের গেটের ভিতরে ঢুকে ফের হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েক জন যুবকের বিরুদ্ধে। পরপর দু’টি ঘটনায় দু’জনের মাথায় আঘাত লাগে। তাঁদের মাথায় সেলাইও পড়েছে। এই ঘটনায় শিলিগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম ক্রিশ সাহা। বুধবার তাঁকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
হাকিমপাড়ার ঋষি অরবিন্দ রোডের বাসিন্দা নবমিতা সিকদার এবং বাবুপাড়ার বাসিন্দা দিয়া সিংহের অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোর চারটে নাগাদ সেবক রোডের একটি হোটেলের বাইরে কয়েক জন যুবক তাঁদের উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন দিয়ার স্বামীর বন্ধু বিক্রম চৌধুরী। অভিযোগ, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিক্রমকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মাথায় ছ’টি সেলাই পড়েছে বলে দাবি করেছেন নবমিতা।
অভিযোগ, এরপর বিক্রমের বন্ধু শুভজিৎ দত্ত হাসপাতালের গেটের বাইরে জল আনতে যান। জল নিয়ে ভিতরে ঢোকার সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শুভজিতের মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী দিয়া সিংহও হেনস্থার শিকার হন বলে দাবি। দিয়ার অভিযোগ, তাঁর গায়ে হাত তোলার পাশাপাশি সোনার চেন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং শাড়ি ধরে টানাটানি করা হয়। শুভজিতের মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় শ্রীবন্ত রাজ সাহা, শাওন রাজ সাহা এবং ক্রিশ সাহার নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নবমিতা ও দিয়া শিলিগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ক্রিশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার আদালতে তোলা হলে ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
হাসপাতালের ভিতরে কী ভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, চিকিৎসা করাতে এসে যদি হাসপাতালের ভিতরেও আক্রান্ত হতে হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নবমিতা ও দিয়া।
বৃহস্পতিবার বিজেপির বিভাগ কনভেনর রাজু সাহা বলেন, “শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসন নিজের মতো করে কাজ করছে। বিষয়টি পর্যটনমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছেছে। যারা এখনও পলাতক, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে আশা করছি।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।