শিলিগুড়ি: তিস্তা নদীতে আটকে পড়া হাতির শাবককে উদ্ধারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বনকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় মৎস্যজীবী এবং তিস্তা ব্যারেজের গেটম্যানরা। তাঁদের সেই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবে ‘গজা মিত্র পুরস্কার’ দিয়ে সম্মানিত করা হল ২৪ জনকে। বুধবার বন্যপ্রাণী সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বেঙ্গল সাফারির নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (WTI), বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগ এবং নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাসোসিয়েশন (NWA)-এর সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তিস্তা নদীতে আটকে পড়া একটি হাতির শাবককে উদ্ধার করতে বন দফতরের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য ফ্রন্টলাইন কর্মীরাও অভিযানে শামিল হয়েছিলেন। দীর্ঘ চেষ্টার পরে শাবকটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার পালটির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
ডব্লিউটিআই-এর ‘গজ উৎসব’ উদ্যোগের অংশ হিসাবেই এ দিন ‘গজা মিত্র’ সম্মান দেওয়া হয়। সম্মানিতদের তালিকায় বন দফতরের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবী এবং তিস্তা ব্যারেজের গেটম্যানরাও ছিলেন। বিপদের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, উদ্ধার অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং হাতির শাবকটিকে নিরাপদে উদ্ধারে তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবেই এই সম্মান বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএফও মুদিত কুমার এবং বেঙ্গল সাফারির ডিরেক্টর ই. বিজয় কুমার। ছিলেন NWA-এর সম্পাদক অনুজিৎ বসুও। বন্যপ্রাণী উদ্ধারের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বন দফতর, স্থানীয় মানুষ এবং সংরক্ষণ সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
বেঙ্গল সাফারির ডিরেক্টর বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু বন দফতরের ভূমিকা যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সম্প্রদায় এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় যত বাড়বে, বন্যপ্রাণী উদ্ধারের কাজ তত বেশি কার্যকর হবে।
অনুষ্ঠানে মানব-হাতি সংঘাত নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি হয়। হাতির আচরণ বোঝা, সংঘাতের পরিস্থিতি এড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষ ও হাতির সহাবস্থান কী ভাবে আরও মজবুত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকদের বক্তব্য, তিস্তায় হাতির শাবক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের যে ভূমিকা সামনে এসেছে, তা ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব আরও বাড়াবে। ‘গজা মিত্র’ সম্মানের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধকেই স্বীকৃতি দেওয়া হল।