বীনা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর : অভিষেক ব্যানার্জির আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের সিম রহস্য উদঘাটন করতে শালবনি থানার পুলিশ নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠিয়েছিল যাদের নামে সিম তুলে ব্যবহার করা হয়েছিল সেই সব ব্যক্তিদের। পুলিশ ফোনের সূত্র ধরে জানতে পেরেছিল সুমিত রায় নিজের সিম ছাড়াও আরও ছ’জনের নামের সিম বিভিন্ন সময় ব্যবহার করতেন। সেই ছ’জনের নাম চিহ্নিতকরণ করে পুলিশ নোটিশ পাঠিয়েছিল। পুলিশ জানতে পেরেছে ৬টি সিমের মধ্যে একজন ব্যক্তির ডকুমেন্টস এ দুটি সিম তোলা হয়েছিল। বাকি চারটে সিম অন্য ৪ জন ব্যক্তির ডকুমেন্টস দেখিয়ে তোলা হয়েছিল। বাকি পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে একজন ব্যক্তির ঠিকানার কোন হদিস পায়নি পুলিশ। আরেকজন বাইরে থাকায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে নোটিশ পেয়ে বাকিদের মধ্যে আজকে কালীঘাটের বাসিন্দা অরিজিৎ সমাজপতি, অর্ক দ্বীপ সমাজপতি এবং রাজেন বাউরি শালবনি থানায় এসে হাজিরা দেন। এখানে পুলিশ তাদের প্রশ্ন করে তারা কি জানতেন সুমিত রায় তাদের ডকুমেন্টস দিয়ে সিম তুলেছিলেন অপরাধ মূলক কাজ করবেন বলে। তা যদি না হয় তাহলে কীভাবেই বা তাদের ডকুমেন্টস পেল সুমিত রায়। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই বিষয়টি নিয়ে এদিন থানায় কালীঘাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে সুমিত রায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর কালীঘাটের বাসিন্দারা জানান, পুলিশ তাদেরকে ডেকেছিল মোবাইলের সিম বিষয় নিয়ে জানার জন্য। আমরা যা জানি তা সবই পুলিশকে বলেছি। যেহেতু তদন্ত চলছে তাই এর বেশি কিছু বলব না। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এই সিম রহস্য বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনও বড় মাথাাও রয়েছে। খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে শালবনি থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য গত তিন অক্টোবর শনিবার সুমিত রায়কে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত।বালি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রটেকশন মানি নেওয়া এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সুমিত রায় কে নয় দিনের পুলিশ হেফাজতে পেয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। ৯ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার পর গত শনিবার ৩ অক্টোবর সুমিত রায় কে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল এই ৯ দিনে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। সুমিত রায় যে মোবাইল ব্যবহার করত তাতে নিজের সিম ছাড়াও অনেকগুলি সিম ব্যবহার করত যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের নামে রয়েছে। যে সিমগুলির মালিক সবই কালীঘাটের আশেপাশে এলাকার মানুষের। তাদেরকে চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন এবং সুমিত রায়কে তাদের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে। তাই পুলিশ আদালতের কাছে নুতুন করে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। পাল্টা সুমিত এর আইনজীবী বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করে। বিচারক দুপক্ষের বক্তব্য শুনে সুমিত রায় কে দুদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।