শিলিগুড়ি: গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, জীবন্ত কার্তুজ এবং বিপুল পরিমাণ প্যাঙ্গোলিনের আঁশ উদ্ধার করল বন দফতর। সুকনা রেঞ্জের বন দফতরের দল সোমবার রাতে খাপরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি এসবিবিএল বন্দুক, তিনটি জীবন্ত কার্তুজ এবং প্রায় ২.৫ কেজি প্যাঙ্গোলিনের আঁশ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় দিলীপ দর্জি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান, প্যাঙ্গোলিনের অবৈধ শিকার ও পাচারের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খাপরাইল এলাকায় অস্ত্র এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বেআইনি কার্যকলাপের খবর আসে। খবর পাওয়ার পরই সুকনা রেঞ্জের বনকর্মীরা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে মাটিগাড়া থানা এলাকার বাসিন্দা দিলীপ দর্জিকে আটক করা হয়।
এরপর তার কাছে তল্লাশি চালিয়ে একটি এসবিবিএল বন্দুক এবং তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার হয়। পাশাপাশি তার কাছ থেকে প্রায় ২.৫ কেজি প্যাঙ্গোলিনের আঁশ উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয় বন দফতর।
ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আর্মস অ্যাক্ট, ১৯৫৯ এবং ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে কার্শিয়াং আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলেও তা খারিজ করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে উদ্ধার হওয়া প্যাঙ্গোলিনের আঁশকে ঘিরেই এখন তদন্তের মূল দিক খতিয়ে দেখছে বন দফতর। কোথা থেকে ওই আঁশ সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোথায় তা নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এর পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না—তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে। প্যাঙ্গোলিনের অবৈধ শিকার এবং পাচারের পিছনে কোনও বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বন দফতর।
বন দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও গ্রেফতার বা আইনি পদক্ষেপ হতে পারে। খাপরাইল ও সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার রুখতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।