বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: ক্যানেল পার হতে গিয়ে কালভার্ট ভেঙে উল্টা গেল ধান বোঝাই পিকআপ ভ্যান! অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো চালক, চাঞ্চল্য পিংলায়। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলাতে অস্থায়ী সেতুর কালভার্ট ভেঙে ক্যানেলের জলে উল্টে গেল ধানবীজ বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন গাড়ির চালক। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার অন্তর্গত সাঁঙ্গাড় বাজার এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত ধানবীজ বোঝাই করা বস্তা নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান অস্থায়ী সেতু পারাপার করছিল। সেই সময় হঠাৎই সেতুর কালভার্ট ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যানটি সেতুর উপর থেকে সোজা ক্যানেলের জলে উল্টে পড়ে। বিপদ বুঝতে পেরে চালক গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি।
এই ঘটনার পরেই সেতুর বেহাল অবস্থা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগেই সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও আজ পর্যন্ত স্থায়ী সেতুর কাজ হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হওয়া এই অস্থায়ী কালভার্টের কারণেই বিপত্তি বলে অভিযোগ তাদের। তৎকালীন পিংলা ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগও তুলেছে বিজেপি।
অপরদিকে, ধনেশ্বরপুর অঞ্চলের তৃণমূল প্রধান পুষ্পেন্দু দে দাবি করেন, ব্লক সভাপতি ও বুথ সভাপতি তাঁদের অন্ধকারে রেখেই সেতুর কাজ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সময়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার আমলে সেচ দপ্তরের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগের জেরে আজও সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
এদিন কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় কারণে ওই রাস্তা দিয়ে বড় গাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেকার চলাচল করছে। ব্যস্ততম এই রাস্তায় অস্থায়ী সেতুর এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অতিরিক্ত বোঝাই পিকআপ ভ্যানটি কীভাবে ওই সেতু দিয়ে পারাপারের অনুমতি পেল ? স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি সময়মতো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। তবে পিকআপ ভ্যান চালক প্রাণে বাঁচলেও এই ঘটনায় সেতুর নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।